এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাসুলুল্লাহ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল অত্যন্ত সাদাসিধে ও পরিমিত। পোশাক, জীবন যাপন কিংবা খাবার সবক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অনাড়ম্বর। তার খাবারের তালিকাতে ও ছিল সাধারণ ও সহজলভ্য বিভিন্ন খাবার। হাদিসে এমন কয়েকটি খাবারের কথা পাওয়া যায়, যেগুলো তিনি পছন্দ করতেন।
মধু ও মিষ্টি জাতীয় খাবার
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি জাতীয় খাবার ও মধু পছন্দ করতেন। মধু তার পছন্দের খাবারের মধ্যে অন্যতম ছিল বলে হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়।
কুমড়া
কুমড়ার প্রতিও নবীজি (সা.)-এর বিশেষ পছন্দ ছিল। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, একবার খাবারের পাত্রে কুমড়া দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) সেখান থেকে কুমড়ার টুকরো খুঁজে খেতে থাকেন। এ ঘটনা তার কুমড়ার প্রতি ভালো লাগার বিষয়টি তুলে ধরে।
খেজুর
আরবের ঐতিহ্যবাহী ফল খেজুরও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিভিন্ন হাদিসে তার খেজুর খাওয়ার কথা পাওয়া যায়। খেজুর ছিল সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং দীর্ঘসময় শক্তি জোগাতে সক্ষম একটি খাবার।
রুটি ও ভিনেগার
সাধারণ খাবারের প্রতি ও নবীজি (সা.)-এর ছিল গভীর কৃতজ্ঞতা। এক হাদিসে এসেছে, তিনি রুটির সঙ্গে ভিনেগার খেয়েছিলেন এবং ভিনেগারকে উত্তম সহযোগী খাবার হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন।
দুধ
দুধও ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিচিত খাবার ও পানীয়ের মধ্যে একটি। হাদিসে তাঁর দুধ পান করার একাধিক ঘটনা পাওয়া যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খাবারের তালিকা থেকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা পাওয়া যায়, তা হলো- খাবারে বিলাসিতা নয়, বরং পরিমিতি ও কৃতজ্ঞতা। তিনি কোনো খাবার পছন্দ না করলে সেটি কে নিন্দা করতেন না, বরং না খেয়ে থাকতেন। খাবার অপচয় করাও তার জীবনাচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলনা।
তার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর উপকরণ নয়; এটি আল্লাহর দেওয়া একটি নিয়ামত। তাই খাবারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, অপচয় না করা এবং পরিমিত আহার করাই হতে পারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে আমাদের অন্যতম সুন্দর শিক্ষা।


