মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে একের পর এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা, অভিবাসীদের বৈধভাবে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত ‘সিবিপি ওয়ান’ নামক অ্যাপটি বন্ধ করা এবং জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা। তার এই পদক্ষেপগুলো মার্কিন অভিবাসন নীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে এবং দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্প তার প্রথম দিনেই জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেন, আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে। এই ঘোষণার ফলে দক্ষিণ সীমান্ত সুরক্ষায় পেন্টাগনের বাড়তি সম্পদ ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে। একইসঙ্গে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এটি শুধু সীমান্ত সুরক্ষার নয় বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অভিবাসীদের জন্য ব্যবহৃত সিবিপি ওয়ান অ্যাপটি সোমবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাপটি ২০২৩ সাল থেকে ৯ লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিল। অভিবাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অ্যাপটি সীমান্তে অনিয়মিত অনুপ্রবেশ কমাতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই অ্যাপটি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করেছে। অ্যাপটি বন্ধ করার ফলে সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বৈধ পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই নীতির আওতায়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। কিন্তু ট্রাম্প এটিকে অবৈধ অভিবাসীদের সুবিধা নেওয়ার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও এই নীতিটি বাতিল করতে হলে তাকে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
এছাড়া, অভিবাসন আদালত পরিচালনাকারী সংস্থার শীর্ষ চার কর্মকর্তাকে সোমবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া কর্মকর্তারা বহু বছর ধরে এই সংস্থায় কাজ করছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের জায়গায় নিজের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কর্মকর্তাদের বসানোর চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প তার বিতর্কিত “রিমেইন ইন মেক্সিকো” নীতিও পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই নীতির আওতায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদন করা অভিবাসীদের তাদের বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে মেক্সিকোতে অবস্থান করতে হবে। এই নীতি কার্যকর করতে মেক্সিকোর সমর্থন প্রয়োজন হবে।
এছাড়া, ট্রাম্প মাদক চক্র এবং গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি কার্টেলগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার পাশাপাশি তাদের নির্মূল করতে সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশগুলো তার প্রথম মেয়াদের অসমাপ্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রতিফলন এবং অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানেরই প্রমাণ। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপগুলো নতুন আইনি লড়াই এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপে পড়তে পারে। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে অভিবাসন সমস্যার সমাধান হওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই নীতিগুলো কতটা কার্যকর হয় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কী ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়।







