প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: জাতির পিতার বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে। সামান্য একটা ব্যাংকের এমডি থাকতে পারবে না, এজন্য ওয়াল্ড ব্যাংকের অর্থ বন্ধ করে দিয়েছিল। নিজের টাকার পদ্মা সেতু করেছি।
তিনি বলেন: যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে তারা কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না। কারণ আওয়ামী লীগই মানুষের ভোটের জন্য আন্দোলন করেছে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এই উন্নয়নের যাত্রা কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাই আবাদ করুন। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে, আপনারা আবাদ করুন। বিশ্বে যে খাদ্যমন্দা সেটা যেন আমরা মোকাবেলা করতে পারি।
আজ মঙ্গলবার পদ্মাসেতুর রেল যোগাযোগ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি এসব কথা বলেন।
পদ্মাসেতুর রেল যোগাযোগ উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে রেলের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। যার ফলে পণ্য আনা-নেয়া সহজ হওয়ায় প্রসার হবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার। যা অবদান রাখবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেল ট্র্যাক নির্মাণ করছে। এর ৮২ কিলোমিটার অংশ ঢাকা ও ভাঙ্গাকে সংযুক্ত করে আজ খুলে দেওয়া হবে এবং এর যশোর সংযোগকারী অবশিষ্ট অংশটি আগামী বছরের জুনে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় এক সুধী সমাবেশে নতুন রুটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, মাওয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনটি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিশেষ ট্রেনে পদ্মা সেতু পার হবেন।
গত বছরের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় ঢাকা ও যশোরের মধ্যে রেল সংযোগ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ দশমিক ৮০ কোটি টাকা। এতে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২১ হাজার ৩৬ দশমিক ৭০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।
প্রকল্পটি সমাপ্ত হওয়ার পর রেল যোগাযোগ পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানী শহরের প্রবেশ পথ আরও বর্ধিত হবে- যা মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর এবং নড়াইল জেলার নতুন এলাকাকে যুক্ত করবে।
প্রকল্পটি ঢাকা-যশোর-খুলনাকে ২১২ দশমিক ০৫ কিলোমিটার সংক্ষিপ্ত রুট দিয়ে বিকল্প রেলপথ সংযোগ স্থাপন করবে।
এটি বাংলাদেশে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আরেকটি উপ-রুট স্থাপন করবে এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মালবাহী ও বিজি কনটেইনার ট্রেন পরিষেবা চালু করবে। এই রুটটি কনটেইনার বহনের জন্য গতি এবং লোড সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে।








