চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Nagod

প্রধানমন্ত্রী আমাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছেন: ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর

Fresh Add Mobile
বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আইয়ের আলোচিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্ট এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন এই সময়ের বহুল আলোচিত শীর্ষ রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সদ্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদানকারী এবং এই দল থেকে আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন লাভকারী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর।

বিজ্ঞাপন

মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্ট অনুষ্ঠানে দীর্ঘ আলাপচারিতার উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন রেজাউল করিম খোকন সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ঝালকাঠিতে তার নিজ সংসদীয় আসন থেকে ৪ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ সালে গঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভায় আইন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সর্বশেষ বিএনপিতে তিনি একজন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার পর গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। জামিনে কারাগার থেকে বেরোনোর পরদিনই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে দেশজুড়ে দারুন চমক সৃষ্টি করেছেন। এতোদিন তার রাজনৈতিক পরিচয় ছিল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।

তিনি এখন ঝালকাঠি-১ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। বিএনপির নেতা হিসেবে শাহজাহান ওমরকে গত ৪ নভেম্বর রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকার নিউমার্কেট থানার বাসে আগুন দেয়ার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। ঐ মামলায় তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তারপর আরও দুই বার বিএনপির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহজাহান ওমর। তিনি একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা।

বিজ্ঞাপন
Reneta April 2023

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছেন। চ্যানেল আইয়ের মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্ট অনুষ্ঠানে উপস্থাপক সোমা ইসলামের মুখোমুখি হয়ে শাহজাহান ওমর তাঁর স্বভাবজাত সুস্পষ্ট কথা বলার ভঙ্গিতে নিজের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অনেক বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। দীর্ঘসময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই দলের নেতৃত্বের নানা দুর্বলতা ত্রুটি-বিচ্যুতি, ভুল সিদ্ধান্ত ইত্যাদির অভিযোগ এনে তিনি তার পুরনো দল ছেড়ে প্রতিদ্বন্ধী বিপক্ষ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে নতুন যোগ দেয়া দল থেকে মনোনয়ন লাভ করে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বতর্মানে ক্ষমতাসীন সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে অটল বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান মোতাবেক আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল অনড় অবস্থানে রয়েছে। তেমন প্রেক্ষাপটে চলমান আন্দোলনে অত্যন্ত নাটকীয় মুহূর্তে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। কিন্তু হঠাৎ করে নাটকীয়ভাবে জামিন লাভ করে কারাগার থেকে বেরিয়েই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে আগামি সংসদ নির্বাচন এই দল থেকে নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করাটা সবাইকে চমকিত করেছে, অবাক করেছে।

এটা কীভাবে সম্ভব হলো, উপস্থাপক সোমা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান ওমর বলেন, আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোতে আমি জামিন লাভ করেছি খুব স্বাভাবিকভাবে। এই জামিন দেয়াটা বিচারকের এখতিয়ার। বিচারক সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাই জামিন দিয়েছেন। এটা তাঁর চূড়ান্ত ক্ষমতা। আমার সঙ্গে একই অভিযোগে অভিযুক্ত আরও তিনজন শীর্ষ আইনজীবি বিএনপি নেতাও জামিন পেয়েছেন। আমি একজন ব্যারিস্টার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত। একজন আইনজীবি হিসেবে বাকি তিন শীর্ষ বিএনপি নেতার মতো আমারও জামিন হয়েছে। এখানে সরকারের বিশেষ কোনো হাত নেই।

হঠাৎ নাটকীয়ভাবে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান এবং এই দল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে আত্মপ্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বাভাবিক নিয়মে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আমি পরদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ফোন পাই। আমাকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ডেকেছেন। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকা যায় ? তার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি দেখা করতে যাই প্রধানমন্ত্রীর অফিসে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আগেও অনেকবার বিভিন্ন সময়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু তখন দূর থেকে সালাম বিনিময় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। এবার অনেকদিন পর আবার তার সঙ্গে দেখা হলো।
মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি বললেন, আপনি এতোদিন কোথায় ছিলেন? আপনি একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। আমাদের সঙ্গে আসুন। আমি প্রতিউত্তরে বললাম, আমি আসতে চাই। আপনি আপনার তিনটি ভাইকে হারিয়েছেন। আমি আজ থেকে আপনার আরেকটি ভাই হতে চাই। তিনি সানন্দে জবাব দিলেন, ঠিক আছে। আপনাকে আমার আরেকটি ভাই হিসেবে গ্রহণ করলাম।

তিনি আমার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করেন, নির্বাচন করেন। আমি তার সঙ্গে রাজনীতি করার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বললাম, আমি আপনার সঙ্গে রাজনীতি করতে চাই, আপনার দলের হয়ে নির্বাচন করতে চাই। তখন তিনি বললেন, ঠিক আছে, তাই হবে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে মনোনয়ন ফরম দিয়ে বললেন, আপনি এটাতে স্বাক্ষর করুন। আমি দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গে স্বাক্ষর করে দিলাম। ব্যস, হয়ে গেল। আমি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে গেলাম মাত্র এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে।

বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার অতীত প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর জানান, আমি সেনাবাহিনীতে ছিলাম। আমি মেজর পদ থেকে অবসর নিয়েছি। পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৬৭ সালে সামরিক প্রশিক্ষণ একাডেমিতে জিয়াউর রহমান আমার প্রশিক্ষক ছিলেন। আমি তখন একজন সদ্য যোগ দেওয়া আর্মি ক্যাডেট। সেই সময় থেকে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালে তখন জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট। একদিন বঙ্গভবন থেকে আমাকে ডাকা হলো।

জানানো হলো, প্রেসিডেন্ট জিয়া আমাকে ডেকেছেন, তিনি কথা বলতেন চান আমার সাথে। আমি সেই ডাকে সাড়া দিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাই। তিনি তার সঙ্গে বসে আমাকে লাঞ্চ করলেন। তারপর বললেন, তুমি রাজনীতিতে যোগ দাও। আমার দলের একজন হয়ে নির্বাচন করো। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি নির্বাচন করলাম। তিনি আমার নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিয়ে জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন। আমি নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছি সেই ১৯৭৯ সালে। দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতি করেছি।

হঠাৎ করে বিএনপি ছেড়ে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানাভাবে হোঁচট খাচ্ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে দলের নিবাহী কমিটির সভা হয়নি। লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় দলটি পরিচালিত হচ্ছে। তার অনেক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। যা কোনোভাবেই মঙ্গলজনক বলে বিবেচিত হয়নি দলের জন্য।

এরকম সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অনেকবার কথা বলতে চেয়েও পারেননি বলে জানান, তিনি। কারণ, দলে যারা বিজ্ঞ প্রাজ্ঞ প্রবীণ অভিজ্ঞ বয়োজ্যেষ্ঠ নেতারা রয়েছেন তারা দীর্ঘদিন রাজনীতি করে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন নিজেদের। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করছেন তিনি তো সেভাবে অভিজ্ঞ নন।

এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে চেয়েছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি অনেকবার বলতে চেয়েছি যে আমরা যারা দলে বয়োজ্যেষ্ঠ, অভিজ্ঞ, দক্ষ, নেতারা রয়েছি তারা বিভিন্ন ইস্যু আলোকপাত করে তা মোকাবেলায় কী করা যায় সে ব্যাপারে পরামর্শ তুলে ধরে একটি সারসংক্ষেপ তার কাছে উপস্থাপন করি। সে যদি সেগুলো দেখে বিবেচনা করেন, পদক্ষেপ নেন, নিতে পারেন। যদি মনঃপুত না হয় সেটা চিহ্নিত করে আমাদের বলতে পারেন। কিন্তু আমার তেমন উদ্যোগে সাড়া মেলেনি। বার বার হতোদ্যোম হয়ে পড়েছি। আমার কথা হলো, একজন নেতা হতে গেলে তার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়, নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে অভিজ্ঞ, পারঙ্গম, চৌকষ হয়ে উঠতে হয়।

আমাদের এখানে বংশানুক্রমে উত্তরাধিকার সূত্রে একেক জন বড় বড় নেতা সেজে পদে আসীন হয়ে যাচ্ছেন। নেতৃত্ব দেয়ার ব্যাপারটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কোনো জিনিস নয়। এখানে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে অনেক কিছু অর্জন করতে হয়। দক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, বিচক্ষণ হয়ে উঠতে হয়। এটা পৈতৃক কোনো সম্পতি নয়। এ কথাটা সবার উপলব্ধির প্রয়োজন রয়েছে। আপনার হঠাৎ দল বদলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি ছেড়ে নৌকায় চড়েছেন, জয় বাংলার দলে সামিল হয়েছেন। এমন পরিবর্তন সম্পর্কে আপনার নিজস্ব অনুভূতি কেমন? প্রশ্ন করা হলে শাহজাহান ওমর বলেন, এখান তো কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। রাজনীতিতে দল পরিবর্তন আজকের নতুন কোনো ব্যাপার নয়। এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। দল পরিবর্তন আমার সাংবিধানিক অধিকার।

দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই পছন্দ অনুযায়ী রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী স্যার উইস্টন চার্চিল সেই সময় তার রাজনৈতিক দল বদলে অন্য দলে গিয়েছিলেন। আমাদের শেরে বাংলা ফজলুল হক সাহেবও পাঁচবার রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছেন। আমার যদি ভালো না লাগে সেই দলের নীতি ও সিদ্ধান্ত যদি পছন্দ না হয়, মন থেকে গ্রহণ করতে না পারি তাহলে সেটা ত্যাগ করে অন্য আরেকটি দলকে আমি বেছে নিতে পারি। এ নিয়ে তো কথা বলার অবকাশ নেই কারো। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য আমি বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছি। জয় বাংলা বলে জীবন বাজি রেখে একাত্তরের রণাঙ্গনে লড়াই করেছি। শরীরে অনেকবার গুলিবিদ্ধ হয়েছি। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। আমার চিন্তা চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে আসছি সবসময়। আমি সেনাবাহিনীতে ছিলাম। একজন সৈনিক হিসেবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি অনুগত থাকার দীক্ষা ও শিক্ষা গ্রহণ করেছি। দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে, তাদের কল্যাণে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য যা করা প্রয়োজন তা করতে আমি সচেষ্ট সবসময়।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। আমি একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার নিজের সংসদীয় এলাকা তথা দেশের মানুষের কল্যাণে উন্নয়ন সমৃদ্ধি অর্জনে কোনো অবদান রাখতে পারছিনা। এভাবে তো আর নিজেকে গুটিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে,তাদের সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভ‚মিকা রাখতেই আমি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো মোটেও যথাযথ ছিলনা। বারবার নির্বাচন বয়কট, বর্জন আর প্রতিরোধের কর্মসূচি গ্রহণ করে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে। রাজনীতিতে নির্বাচন হলো ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র উপায়। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সহজ উপায় তো নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে কিংবা এর স্বপক্ষে কথা বললে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। যা দলের সবাইকে রীতিমতো হতাশ ও বিক্ষুব্ধ করেছে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে আমরা সরকার গঠন করতে পারতাম। এর মাধ্যমেই দলের জনসমর্থন যাচাই হয়ে যেত। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বিরোধী দলে অবস্থান নিয়েও তো আমরা জনগণের নানা দাবি সংসদে তুলে ধরতে পারতাম। এভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে, উন্নয়নে, সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারতাম।

এখন নির্বাচন বয়কট, বর্জন আর প্রতিরোধের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কী অর্জন করেছে, সেটা তো সমগ্র দেশবাসী সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন। বার বার নির্বাচন বয়কট, বর্জন ও প্রতিরোধকে বিএনপির একটি হঠকারি ভুল

সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামি ৭ জানুয়ারি যথাসময়ে, যথানিয়মে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ ভোটার স্বতঃস্ফুর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে যাবে, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। এর বাইরে ক্ষমতায় যাওয়ার অন্য কোনো উপায় তো নেই।

কয়েকমাস আগে বিএনপি নেতা হিসেবে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসকে ভগবান বা ত্রাণকর্তা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হলে তিনি বলেন, বাইরের কোনো শক্তি এখানে কাউকে অথবা কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিতে পারবেনা। যদিও আমাদের বাংলাদেশের রাজনীতিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা নানাভাবে খবরদারি করতে চাইছে, অনেক দৌঁড়ঝাঁপ করেছেও। তাদের ওপর ভরসা করে যারা ক্ষমতায় যাওয়া স্বপ্ন দেখছে সেটা কোনোভাবেই সফল হবেনা। সেদিন আমি যে মন্তব্যটি করেছিলাম, অনেকটা বীতশ্রদ্ধ বিরক্ত হয়ে, কৌত‚ক ছলে সেই উপমাটি প্রয়োগ করেছিলাম। ওখানে সিরিয়াস কিছু ছিলনা।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে মনোনয়ন লাভের পর আপনার নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে একটি সভায় বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে আপনার অস্ত্রবহনের অভিযোগ উঠেছে। যা নির্বাচনী কার্যবিধির পরিপন্থী বলে নির্বাচন কমিশন সতর্ক করেছে এবং কৈফিয়ত তলবও করেছে। আপনি ইতোমধ্যে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন এ বিষয়ে কথা বলতে। এ প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য জানতে চাই, দেখুন আমি একজন রাজনীতিবিদ। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমার শুভাকাক্সক্ষী, সমর্থক, আপনজন, বন্ধু-মিত্র যেমন রয়েছে তেমনি শত্রুও রয়েছে। যে কারণে আমাকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয়। নিজের নিরাপত্তার জন্য আমি লাইসেন্স করা অস্ত্র সঙ্গে রাখি। সেদিন আমার নির্বাচনী এলাকায় সভায় বক্তব্য রাখার সময় আমি স্থানীয় একজন নেতাকে অস্ত্রটি রাখতে দিয়েছিলাম। অনেকটা অসচেতনতা ও অজ্ঞতার কারণে সে অস্ত্রটি জনসমক্ষে প্রদর্শন করে উপস্থিত ছিল। ব্যাপারটি কোনো ভাবেই প্রত্যাশিত কিংবা কাঙ্খিত ছিলনা, অনেকটা অসতর্কতা ও অসাবধানতার কারণে ব্যাপারটি ঘটেছে। এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

আগামি ৭ জানুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে নানা আশঙ্কা জল্পনা-কল্পনা, চিন্তা-ভাবনা, গুজব-গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সেদিন নির্বাচনকে ঘিরে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটবে কীনা- জানতে চাইলে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর জানান, নাহ, কী আর ঘটবে? সেদিন ঠিকঠাক মতো নির্বাচন হবে। অনাকাঙ্খিত কোনো কিছুই ঘটবে না। নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু সুন্দর, শান্তিপূর্ণ হবে। আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি, নির্বাচন হয়ে যাবার পর সব কিছুই আগের মতো ঠিকঠাক স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কেউ কিছু করতে পারবেনা। নতুন সরকার গঠিত হবে। তারা দায়িত্ব নিয়ে আবার দেশ পরিচালনা শুরু করবে নতুন উদ্যমে।

বিজ্ঞাপন
Bellow Post-Green View