চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
  • নির্বাচন ২০২৬
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

বৈষম্যের রাজনীতি ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

রাজু আলীমরাজু আলীম
৭:৪০ অপরাহ্ন ২৪, মার্চ ২০২৫
মতামত
A A

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা যাচ্ছে বৈশাখের দমকা হাওয়া। দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০২৪-এর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বহু প্রত্যাশা, প্রতীক্ষা, ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া মুক্তির সনদ। লাখো-কোটি জনতার এককাতারে দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার মুহূর্ত। কিন্তু স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর ত্যাগের সাত মাস কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উঁকি দিচ্ছে মতানৈক্যের ধোঁয়াশা, অবিশ্বাসের ধূম্রজাল।

শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে দেখা যায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। একদিকে অন্তর্বর্তী সরকার, একদিকে আওয়ামী লীগের জুজু, একদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ে গড়া দল এনসিপি, একদিকে বিএনপি; নির্বাচন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশে তৈরি হওয়া বিতর্কের শেষ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সামরিক বাহিনীকে।

নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মুহূর্তে, ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের অন্যতম কী ফ্যাক্টর, দেশের জনগণের আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকেও টেনে আনা হয় রাজনীতির হিসাব-নিকাশের ময়দানে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হাসিনা-পরবর্তী সমীকরণে কোন পথে হাঁটছে বাংলাদেশ?

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রনেতাদের প্রধান দাবি ছিল রাষ্ট্রসংস্কার। অন্যদিকে, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা পুনরায় চালু করতে সংক্ষিপ্ততম সময়ে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল বিএনপি।

অন্যদিকে, অভ্যুত্থান-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী, বামপন্থী সংগঠন, বিএনপি সহ নবগঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং সাধারণ মানুষের দাবি ছিল বাংলাদেশকে ভারতীয় বলয়, আগ্রাসন ও প্রভাবমুক্ত একটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এরই মধ্যে সরকার পতনের পর ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ধারাবাহিক বার্তা, দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ এবং জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার ঘটনায় ক্ষমা না চেয়ে উল্টো প্রতিশোধ নেওয়ার প্রচেষ্টা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করলেও রাজনীতির মাঠে পুরো বিষয়টিই যেন বদলে যায় দেশে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কিছু চলমান পরিস্থিতিতে।

একদিকে যখন ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন উত্থানের বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন দেশটির গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড, তখন দেশের চলমান সংকটে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সেখানে সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে নতুন আওয়ামী লীগ বা পরিশোধিত আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের বিষয়ে কথা তোলা হয়।

Reneta

পোস্টে বলা হয়, দেশের পরিস্থিতি ও রাজনীতি নিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে বৈঠকে বসেন এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। পোস্টে তিনি বলেন (হুবহু তুলে ধরা হলো):

কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আমি সহ আরও দুইজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ই মার্চ দুপুর ২:৩০টায়। আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নেই। আমাদেরকে বলা হয়—ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা না-কি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন, গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।

আমাদেরকে আরও বলা হয়—রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।

আমাদেরকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন।

এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোনো ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক’।

আলোচনার এক পর্যায়ে বলি—যেই দল এখনো ক্ষমা চায়নি, অপরাধ স্বীকার করেনি, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দেবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডম অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স। উই আর ইন দিস সার্ভিস ফর অ্যাটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া ‘ইনক্লুসিভ’ ইলেকশন হবে না।’

উত্তরে বলি, ‘আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।’

পরে মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।

জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেক কিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো এজেন্সি, কখনো বা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের উপরেই আস্থা রেখেছি। আপনাদের সাথেই হাসিনার চূড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি।

আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের উপরেই ভরসা রাখতে চাই। এই পোস্ট দেওয়ার পর আমার কী হবে আমি জানি না। নানামুখী চাপে আমাকে হয়তো পড়তে হবে, হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপোষ করার সুযোগ নেই।

জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সকল প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারও যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই, তবে আবারও এই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারব।

ফেসবুকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্যের বিপরীতে সারজিস আলমও প্রতিউত্তরে একটি স্ট্যাটাস লিখেন। ‘১১ মার্চ সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ নিয়ে আমার জায়গা থেকে কিছু সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন’ শিরোনাম দিয়ে তিনি লিখেন (হুবহু):

সেদিন আমি এবং হাসনাত সেনাপ্রধানের সাথে গিয়ে কথা বলি। আমাদের সাথে আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ আরেকজন সদস্যেরও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তিনি যেতে পারেননি। প্রথমেই স্পষ্ট করে জানিয়ে রাখি, সেদিন সেনানিবাসে আমাদের ডেকে নেওয়া হয়নি, বরং সেনাপ্রধানের মিলিটারি অ্যাডভাইজারের সাথে যখন প্রয়োজন হতো, তখন মেসেজের মাধ্যমে আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর আদান-প্রদান হতো।

যেদিন সেনাপ্রধান পিলখানা হত্যাকাণ্ড দিবসে অনেকটা কড়া ভাষায় বক্তব্য দিলেন এবং বললেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ’, তখন আমি সেনাপ্রধানের মিলিটারি অ্যাডভাইজারকে জিজ্ঞাসা করি—আপনাদের দৃষ্টিতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু দেখছেন কি? সেনাপ্রধানের বক্তব্য তুলনামূলকভাবে স্ট্রেইট-ফরোয়ার্ড এবং হার্শ মনে হচ্ছে। তিনি আমাকে বললেন, তোমরা কি এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে চাও? আমি বললাম—বলা যেতে পারে। এরপর সেদিন সেনাপ্রধানের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। সেনাভবনে সেই রুমে আমরা তিনজনই ছিলাম—সেনাপ্রধান, হাসনাত এবং আমি।

মানুষ হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তির অভিমতকে একেকজন একেকভাবে অবজার্ভ করে। হাসনাত সেদিন তার জায়গা থেকে যেভাবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে অবজার্ভ ও রিসিভ করেছে এবং ফেসবুকে লিখেছে, আমার সেক্ষেত্রে কিছুটা দ্বিমত আছে।

আমার জায়গা থেকে আমি সেদিনের বক্তব্যকে সরাসরি ‘প্রস্তাব’ দেওয়ার আঙ্গিকে দেখিনি, বরং ‘সরাসরি অভিমত প্রকাশের’ মতো করে দেখি। ‘অভিমত প্রকাশ’ এবং ‘প্রস্তাব দেওয়া’ দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যদিও পূর্বের তুলনায় সেদিন সেনাপ্রধান অনেকটা স্ট্রেইট-ফরোয়ার্ড ভাষায় কথা বলছিলেন। পাশাপাশি ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের জন্য ‘চাপ দেওয়ার’ যে বিষয়টি এসেছে, সেখানে ‘চাপ দেওয়া হয়েছে’ এমনটি আমার মনে হয়নি। বরং রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ না আসলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমস্যার সৃষ্টি হবে, সেটা তিনি অতি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছিলেন।

হাসনাতের বক্তব্যে যে টপিকগুলো এসেছিল, যেমন—’রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’, ‘সাবের হোসেন’, ‘শিরিন শারমিন চৌধুরী’, ‘সোহেল তাজ’—এসব নিয়ে কথা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে কি না, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থাকলে কি হবে, না থাকলে কি হবে, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচন না করলে কবে ফিরে আসতে পারে কিংবা আদৌ আসবে কি না—এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল। এসব সমীকরণে দেশের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, স্থিতিশীলতা কিংবা অস্থিতিশীলতা কোন পর্যায়ে যেতে পারে—সেসব নিয়ে কথা হয়েছিল।

কিন্তু যেই টোনে হাসনাতের ফেসবুক লেখা উপস্থাপন করা হয়েছে, আমি মনে করি—কনভারসেশন ততটা এক্সট্রিম ছিল না। তবে অন্য কোনো একদিনের চেয়ে অবশ্যই স্ট্রেইট-ফরোয়ার্ড এবং সো-কনফিডেন্ট ছিল। দেশের স্থিতিশীলতার জন্য রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যে প্রয়োজনীয়, সেই বিষয়ে সরাসরি অভিমত ছিল।

হাসনাত তার বক্তব্যে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করেছে—

‘আলোচনার এক পর্যায়ে বলি—যেই দল এখনো ক্ষমা চায়নি, অপরাধ স্বীকার করেনি, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দেবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডম অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স। উই আর ইন দিস সার্ভিস ফর অ্যাটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি।’

এই কনভারসেশনটা হয়েছে—এটা সত্য। কিন্তু আমাদের রুমে বসে হওয়া কনভারসেশন হঠাৎ এককভাবে শেষ করে যখন সেনাপ্রধান উঠে দাঁড়ালেন এবং রুম থেকে কথা বলতে বলতে বের হয়ে এসে যখন আমরা গাড়িতে করে ফিরবো, তার পূর্বে বিদায় নেওয়ার সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই কনভারসেশন হয়েছে। সেনাপ্রধান রেগে যাওয়ার সুরে এই কথা বলেছেন বলে আমার মনে হয়নি, বরং বয়সে তুলনামূলক বেশ সিনিয়র কেউ জুনিয়রদেরকে যেভাবে অভিজ্ঞতার ভারের কথা ব্যক্ত করে, সেই টোন এবং এক্সপ্রেশনে বলেছেন।

‘হাসনাত না ওয়াকার’—এই ন্যারেটিভ এবং স্লোগানকে আমি প্রত্যাশা করি না। হাসনাতের জায়গা ভিন্ন এবং সেনাপ্রধান জনাব ওয়াকার-উজ-জামানের জায়গাও ভিন্ন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করানোও কখনো প্রাসঙ্গিক নয়। পাশাপাশি সেনাপ্রধানের পদত্যাগ নিয়ে যে কথা দুয়েক জায়গায় আসছে, সেটিও আমাদের বক্তব্য নয়।

এসবের পাশাপাশি আমি আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে একটি অভিমত প্রকাশ করতে চাই। আমি ভুল হতে পারি, কিন্তু এই মুহূর্তে আমার এটিই সঠিক মনে হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ না কেউ যোগাযোগ রক্ষা করে। সেই প্রাইভেসি তারা বজায় রাখে। আমাদের সাথে সেনাপ্রধানের যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে, সেগুলোর সাথে আমাদের সরাসরি দ্বিমত থাকলেও আমরা সেগুলো নিয়ে আমাদের দলের ফোরামে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারতাম, সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম, সে অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারতাম। কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আওয়ামী লীগের যেকোনো ভার্সনের বিরুদ্ধে এখনকার মতই রাজপথে নামতে পারতাম। অথবা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি আমাদের সাথে ঐক্যমতে না পৌঁছালে আমরা শুধুমাত্র আমাদের দলের পক্ষ থেকেই এই দাবি নিয়ে রাজপথে নামতে পারতাম।

কিন্তু যেভাবে এই কথাগুলো ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এসেছে, এই প্রক্রিয়াটি আমার সমীচীন মনে হয়নি। বরং এর ফলে পরবর্তীতে যেকোনো স্টেকহোল্ডারের সাথে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আস্থার সংকটে পড়তে পারে।

আমার এই বক্তব্যে আমার সহযোদ্ধা হাসনাতের বক্তব্যের সাথে বেশ কিছু ক্ষেত্রে দ্বিমত এসেছে। এটার জন্য অনেকে আমার সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমাদের ব্যক্তিত্ব স্রোতে গা ভাসানোর মত কখনোই ছিল না। ছিল না বলেই আমরা হাসিনা রেজিমের বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম।

আজও কেউ হাসনাতের দিকে বন্দুক তাক করলে তার সামনে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কমিটমেন্ট আমাদের আছে। কিন্তু সহযোদ্ধার কোনো বিষয় যখন নিজের জায়গা থেকে সংশোধন দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি, তখন সেটাও আমি করব। সেই বিবেকবোধটুকু ছিল বলেই ৬ জুন প্রথম যেদিন শহীদ মিনারে কয়েকজন কোটা প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়, তাদের মধ্যে সামনের সারিতে আমরা ছিলাম।

আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই বিবেকবোধের জায়গাটুকুই আমাদেরকে সঠিক পথে রাখবে। আত্মসমালোচনা করার এই মানসিকতাই আমাদেরকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নিয়ে যাবে।

জুলাই গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড ঘটানো ‘আওয়ামী লীগের যেকোনো ভার্সনের’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

সারজিসের এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ লিখেছেন:

এসব কী ভাই! পাবলিকলিই বলছি, দুজনের একজন মিথ্যা বলছেন। এটা চলতে পারে না। মানুষ এনসিপিকে নিয়ে যখন স্বপ্ন বুনছে, তখন এভাবে এনসিপিকে বিতর্কিত করার কাদের এজেন্ডা!

এ ঘটনায় দলটির নেতৃবৃন্দের ভিন্ন ভিন্ন পোস্ট নিয়ে দলটির ভেতরে অস্বস্তি তৈরি করে। এ ঘটনায় খালেদ সাইফুল্লাহ নামের এক নেতা লিখেছেন:

গুটিকয়েক ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত চিন্তাপ্রসূত কথাবার্তা কোনো ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই বাইরে প্রকাশ করছেন। ব্যক্তিগত রাজনীতি হাসিলের জন্য তাঁরা যখন যা ইচ্ছা বলে বেড়াচ্ছেন; সেগুলো যে স্ববিরোধী হয়ে যাচ্ছে, সেটি নিয়েও তাঁদের কোনো উদ্বেগ নেই। যদি সেলিব্রিটি ফেইস, কন্ট্রোভার্সি আর পপুলিজম দিয়েই রাজনীতি করতে চান, তাহলে আমাদের পার্টি থেকে বাদ দিয়ে টিকটকারদের এনে বসিয়ে দিন।

কেবলমাত্র এনসিপিই নয়, পোস্ট-পাল্টাপোস্টের বিষয় এবং সেনাবাহিনীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে উৎকণ্ঠা জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেন:

এটি অপরিপক্ব বক্তব্য এবং বক্তব্যটি রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি ছাড়া কিছুই নয়। এই দেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর বিকল্প কিছু যদি থাকে, তাহলে তারা এরকম বক্তব্য রাখতে পারে না। আবার স্লোগান দেখলাম…

এনসিপির দুই নেতার এই বক্তব্যে নেত্র নিউজকে দেওয়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বক্তব্যে বলা হয়:

হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সারজিস আলম দীর্ঘদিন যাবৎ সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। পরবর্তীতে সারজিস আলম ১১ই মার্চ ২০২৫ তারিখে সেনাপ্রধানের মিলিটারি অ্যাডভাইজারকে ফোন দিয়ে সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাতের জন্য সময় চান। এর প্রেক্ষিতে মিলিটারি অ্যাডভাইজার তাদেরকে সেনাসদরে আসার জন্য বলেন। অতঃপর ১১ই মার্চ দুপুরে সারজিস আলম এবং হাসনাত আবদুল্লাহ সেনাসদরে না এসে সরাসরি সেনাভবনে সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান অফিস কার্যক্রম শেষ করে সেনাভবনে এসে তাদের সঙ্গে দেখা করেন।

নেত্র নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়:

সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা নেত্র নিউজ স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিটের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পৃথকভাবে নেত্র নিউজকে বলেছেন যে, ছাত্রনেতাদের আগ্রহ ও উদ্যোগেই ওই বৈঠকটি হয়েছিল।

নেত্র নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়

বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সেনাবাহিনী ও এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল। ঐতিহাসিকভাবেই দেশটিতে এখনো রাজনীতি ও বিভিন্ন বেসামরিক কার্যক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর প্রভাব লক্ষণীয়। তবে শেখ হাসিনার পতন-পরবর্তী সময়ে বারবার কোনো ধরনের সেনা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বা আগ্রহ উড়িয়ে দিয়েছেন সেনাবাহিনীর মৃদুভাষী হিসেবে পরিচিত জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে উঠে আসছে, সার্বিকভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে কিছু ব্যক্তি ও মাধ্যম। যার সম্মিলিত প্রয়াসে সৃষ্টি হচ্ছে এমন দশা। এ প্রসঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেন:

৭৫-পরবর্তীতে খালেদ মোশারফের বিরুদ্ধে যেভাবে প্রো-ইন্ডিয়ান একটা ব্লেম দিয়ে একটা ম্যাসাকার তৈরি করা হয়েছিল, এখানেও সেরকম একটা প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। যার উদ্দেশ্য একটা গৃহযুদ্ধের দিকে যাওয়া। রাজনীতিবিদদেরকে সেনাবাহিনীর মুখোমুখি করে দেওয়া এই সমস্ত প্ল্যানের অংশ।

তবে বহুজনের বহুমতের বাইরে গিয়েও বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ইস্যুতে প্রতিটি পক্ষকে নির্দিষ্ট সীমারেখায় থাকার তাগিদ দেন কেউ কেউ। যা না হলে, বসন্তের পড়ন্ত হাওয়ায় নেমে আসতে পারে বৈশাখের প্রলয়।

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: রাজনীতিসেনাবাহিনী
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভোটকেন্দ্রে কন্যা সন্তানের জন্ম, নাম রাখা হলো ‘খালেদা’

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

নির্বাচন পরবর্তী প্রথম প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচি ১১ দলীয় জোটের

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

দেশ গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করবে: আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

প্রচলিত রাজনীতির বাইরে তারেক রহমানের এক ভিন্ন সন্ধ্যা

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT