ইসলামি সামাজিক অর্থায়নকে কার্যকর ও টেকসই উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশন-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত, সাদাকা, ওয়াকফ ও ক্বারয হাসানার ব্যবহার নিশ্চিত করে দারিদ্র্য বিমোচনই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য।
শনিবার ১০ জানুয়ারি ঢাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট আলেম, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়নকর্মী, কর্পোরেট নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ড ও অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মো. শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ রাশিদ আল মাজিদ খান সিদ্দিকী মামুন, মুর্তজা জামান, মুহাম্মদ জুনায়েদুল মুনির, আরিফ বিন ইদ্রিস, কামরুজ্জামান, মো. জুলফিকার আলী সিদ্দিকী, আসিফ সাদ বিন শামস, সৈয়দ সাদিক রেজা, রেজা আহমেদ এবং আরিফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের ভিশন, মিশন ও কার্যক্রম কাঠামো উপস্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে “বাংলাদেশে জাকাত আন্দোলনকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন ড. ওমর ফারুক, ড. আবুল কালাম আজাদ ও শাহ মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে জাকাতের সম্ভাব্য বার্ষিক পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা, তবে এর খুব অল্প অংশই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আসে। পরিকল্পিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাকাত দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তব্য দেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। তিনি বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য দূরীকরণে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ পথ তৈরি করতে পারে।”
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট— [www.givinggrace.org.bd।](http://www.givinggrace.org.bd।) একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকায়ন, মানবিক সহায়তা ও আয়বর্ধক কার্যক্রমসহ সংস্থাটির প্রধান কর্মসূচিগুলো তুলে ধরা হয়। তথ্যভিত্তিক ও শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে জাকাতভোগী নির্বাচনের বিষয়টিও উপস্থাপন করা হয়।
সংস্থাটির কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে
- ৩,০৫৯টি পরিবার, মোট ১১,৪২৬ জন মানুষ উপকৃত হয়েছেন
- ১,৪২৬টি চক্ষু অস্ত্রোপচারে সহায়তা দেওয়া হয়েছে
- ৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ২৫,১১৯ জন রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন
- অংশীদার হাসপাতালের মাধ্যমে ৭২ জন গুরুতর রোগী চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন
- মাসিক খাদ্য সহায়তা পেয়েছে ১১২টি পরিবার
- শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা পাচ্ছে ৪১১ জন শিক্ষার্থী
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “জাকাত শুধু দান নয়; এটি সমাজে ন্যায় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এই আমানতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের শরিয়াহ তত্ত্বাবধান বোর্ড সম্পর্কে বক্তব্য দেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মানজুর ই এলাহি। বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. জুবায়ের মোহাম্মদ এহসানুল হক এবং তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম। সংস্থাটির সব কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা শরিয়াহসম্মত কি না, তা এই বোর্ড স্বাধীনভাবে তদারকি করবে।
কর্পোরেট জাকাত বিষয়ে বক্তব্য দেন আইএফএ কনসালটেন্সির পরিচালক ড. মুফতি ইউসুফ সুলতান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং ইসলামি আর্থিক নীতিমালার ভিত্তিতে টেকসই সামাজিক প্রভাব তৈরির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বর্তমানে সংস্থাটি লালমনিরহাট, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল ও পটুয়াখালী—এই পাঁচ জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বিশ্বাসভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।







