রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে একটি বহুতল ভবনে মা-মেয়েকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে গৃহকর্মী আয়েশার কথা বললেও কোথাও তার বিস্তারিত তথ্য পাচ্ছিলেন না পুলিশ সদস্যরা।
কাজে আসা-যাওয়ার চারদিনে মুখ ঢেকে চলাফেরার করায় সিসিটিভির ভিডিওতে তার চেহারা স্পষ্ট নয়। গলার একপাশে পোড়া দাগের তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার এক বছরের চুরির মামলা পর্যালোচনা করে বেরিয়ে আসে গত জুলাইয়ের একটি চুরির তথ্য। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই আয়েশাকে শনাক্ত করে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ওই বাসায় কাজে যোগ দেওয়ার সময় আয়েশার কোনো ঠিকানা বা যোগাযোগের নম্বর রাখা হয়নি। আগের একটি জিডির সূত্র ধরে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় বসবাস করে—এমন একজন গৃহকর্মীর সন্ধান পাওয়া যায়।
এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আয়েশাকে সন্দেহ করা হলেও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল- গৃহকর্মী আয়েশার কোনো ছবি, এনআইডি, মোবাইল নম্বর বা পরিচয় সংরক্ষিত না থাকা। সিসিটিভির ফুটেজেও তাকে চেনার মতো কোনো স্পষ্ট ভিজ্যুয়াল পাওয়া যায়নি, কারণ সে প্রতিবারই বোরকা পরে মুখ ঢেকে আসা-যাওয়া করত।
তিনি বলেন, ঘটনার আশপাশে কোনো ডিজিটাল ক্লু না পেয়ে তদন্ত দল ‘ম্যানুয়াল’ উপায়ে থানায় গত এক বছরে গৃহকর্মী কর্তৃক সংঘটিত চুরির ঘটনাগুলো খুঁজতে থাকে।
তদন্তকারীরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করেন- গলায় পোড়া দাগ, জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় বাস, গৃহকর্মী পরিচয়ে সংঘটিত পূর্বের চুরি তথ্য নিয়ে মাঠে নামে তদন্তকারীরা। এখানেও আয়েশার তথ্য মিলে যায়। হুমায়ুন রোডে সেই ভুক্তভোগী পরিবার থেকে একটি পুরনো মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়, যা থেকেই শুরু হয় আসামির সন্ধান।
তিনি আরও বলেন, সিডিআরের বিশ্লেষণে পাওয়া অবস্থান ধরে হেমায়েতপুরে গিয়ে জানা যায়- নম্বরটি ব্যবহার করত রাব্বি নামের এক ব্যক্তি। তদন্তে বেরিয়ে আসে- রাব্বির স্ত্রীই হলো সেই আয়েশা এবং তারা পূর্বে জেনেভা ক্যাম্পে থাকত- বাদীর দেয়া বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। পরে হেমায়েতপুরে অভিযান চালানো হলে দরজা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অবশেষে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকায়া গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়।







