ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পরিচালক সুদীপ্ত সেনের ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ ছবি নিয়ে চলছে বিতর্ক। তারকাবিহীন নিতান্তই স্বল্প বাজেটের ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’। তবুও বক্স অফিসে সাড়া ফেলে দিয়েছে ছবিটি। কিন্তু কী আছে এই ছবিতে, যা নিয়ে ভারতব্যাপী বিতর্কের ঝড়?
ছবির গল্প ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে। কেরালা থেকে ৩২ হাজার মহিলাকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসে যোগ দিতে বাধ্য করা এবং সিরিয়া ও আফগানিস্তানে আইএস-এর প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়ার হাড় হিম করা ঘটনা উঠে এসেছে এই ছবিতে।
হিন্দু মেয়েদের উপর চলা নির্যাতনের এই কাহিনীকে ‘ইসলাম বিরোধী’ এবং ‘প্রোপাগান্ডা ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে বাম-কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলো। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছেন, কেরালার মতো একটি আপোষহীন ধর্মনিরপেক্ষ জায়গাকে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রচার চালানোর জন্য ষড়যন্ত্র করে তৈরি করা হয়েছে এই ছবি। ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ কে উস্কানিমূলক ছবি হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
তবে সমর্থনও পেয়েছে এই ছবি। নরেন্দ্র মোদি সহ বিজেপির নেতারা প্রশংসা করেছেন এই ছবির। দলের সদস্যরা ছবিটি বিনামূল্যে দেখার ব্যবস্থাও করেছেন বেশ কয়েক স্থানে।
মূলধারার চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকে অবশ্য ভালো রিভিউ পায়নি। এই ছবিতে ‘সংক্ষিপ্ততার অভাব” আছে বলে মনে করছেন অনেকে। অকারণে দীর্ঘ করা হয়েছে ছবির কাহিনী। আরেকজন সমালোচক লিখেছেন, ‘ছবিটির ইসলাম এবং ধর্মান্তর সম্পর্কিত চিন্তাভাবনাগুলি বিদ্বেষপূর্ণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে”।
তবে যত সমালোচনা কিংবা বিতর্কই থাকুক, বক্স অফিসে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স করছে এই ছবি। কোনো বড় তারকা না থাকা সত্ত্বেও ছবিটি এখন পর্যন্ত আয় করেছে ৬৮ কোটি রূপি।
শুক্রবার (৫ মে) হিন্দির পাশাপাশি তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম ভাষায় মুক্তি পেয়েছে এই ছবি। এতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন আদা শর্মা, যোগিতা বিহানি, সোনিয়া বালানি, সিদ্ধি ইদনানি, বিজয় কৃষ্ণ, প্রণয় পাচৌরি, প্রণব মিশ্র প্রমুখ।








