তানজানিয়ার গত মাসের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দেশজুড়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তার ভয়াবহ রূপ উঠে এসেছে সিএনএন-এর বিস্তৃত অনুসন্ধানে। ভিডিও, অডিও ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য মিলিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে—পুলিশ ও টহলরত সশস্ত্র ব্যক্তিরা বহু নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীর উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) এ বিষয়ে এক বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ঘোষণা করেছিলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেককেই বাধা দেওয়ার পরও তিনি ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পর দেশজুড়ে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়লে কারফিউ জারি ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে সরকার। প্রথমে সরকার ও পুলিশ কোনও হতাহতের ঘটনা অস্বীকার করলেও পরে প্রেসিডেন্ট আংশিকভাবে স্বীকার করেন যে কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে—তবে কোনও তথ্য বা সংখ্যা প্রকাশ করেননি।
সিএনএনের যাচাইকৃত একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে—দার এস সালাম এবং মওয়ানজা শহরের প্রধান হাসপাতালগুলোর মর্গে লাশ ঠাঁসা হয়ে পড়ে আছে, এমনকি হাসপাতালের করিডোর ও মেঝেতেও লাশ স্তূপীকৃত। এক চিকিৎসক জানান, “মর্গ পূর্ণ হয়ে গেলে তারা বাইরে লাশ স্তূপ করে রাখতে বাধ্য হত।”
স্যাটেলাইট চিত্রেও দার এস সালামের উত্তরে কোন্ডো কবরস্থানে নতুনভাবে খোঁড়া মাটির চিহ্ন ধরা পড়েছে, যা মানবাধিকার সংগঠন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে সাম্প্রতিক গণকবরের আশঙ্কা জোরদার করেছে। তাদের দাবি—গত কয়েক সপ্তাহে নিহত বহু বিক্ষোভকারীর লাশ এখানে সমাহিত করা হয়েছে।
এক নারী জানান, ভিডিওতে তিনি তার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেছেন, যিনি বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ১ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন মর্গে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
সিএনএনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে—আরুশায় অন্তত দুই বিক্ষোভকারীকে পুলিশ কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেছে, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সরাসরি কোনও হুমকির সৃষ্টি করেনি। নিহতদের একজন ছিলেন গর্ভবতী নারী—পালানোর সময় পিঠে গুলি লাগে। অন্য যুবককে মাথায় গুলি করা হয়।
ইন্টারনেট আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনার পর সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “আতঙ্ক সৃষ্টিকারী” ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
প্রধান বিরোধী নেতা টুন্ডু লিসু রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আটক আছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শত শত বিক্ষোভকারী নিহত। আরও অনেকে আহত বা আটক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনার ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত এবং পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় তানজানিয়ার ভাবমূর্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হাসান ইতোমধ্যে অস্থিরতা তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছেন, তবে বিক্ষোভকারীদের অর্থপুষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন—যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার সরকার ও পুলিশ বাহিনী সিএনএনের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।








