বার্বি পুতুলের নাম শুনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। আগে বার্বি শুধু মাত্র একটি পুতুল হিসেবে পরিচিত হলেও এই পুতুলের নামে পোশাক, লাইফ-স্টাইল সামগ্রীতে বাজার সয়লাভ। শুধু তাই নয় মিডিয়া জগতেও দাপটের সাথে রাজত্ব করছে বার্বি। এই বার্বি পুতুলকে নিয়ে তৈরি হয়েছে মিউজিক ভিডিওসহ একাধিক কার্টুন এবং অ্যানিমেশন মুভি। তবে এবার বার্বি নিয়ে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ মূল ধারার নন এনিমেশন একটি মুভি, যা সাড়া ফেলেছে সারা বিশ্বে।
দেখে নেয়া যাক তবে সাড়া জাগানো এই বার্বি পুতুলের শুরুর ইতিহাসটা কেমন ছিল,
শুরুর কথা,
পঞ্চাশের দশকে রুথ হ্যান্ডলার নামক একজন ভদ্রমহিলা প্রথম বার্বি পুতুল তৈরির কথা ভাবেন। রুথ বেশির ভাগ সময় দেখতেন, তার মেয়ে বারবারা কাগজের তৈরি এক ধরণের পুতুল নিয়ে খেলছে যা দেখতে অনেকটা বড়দের মতো। সেই থেকেই রুথ ভাবেন, বাচ্চা মেয়েদের জন্য তিনি এমন পুতুল তৈরি করবেন যা দেখতে সুন্দর, গোলাপি রঙের কল্পনার পৃথিবীতে যার বাস।

রুথ ছিলেন ‘ম্যাটেল’ নামক খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। ১৯৪৫ সালে রুথ এবং তার স্বামী এলিয়ট হ্যান্ডলার এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই ম্যাটেলের মাধ্যমেই ১৯৫৯ সালে প্রথম বার্বি পুতুল বাজারে নিয়ে আসেন রুথ।

নামকরণ,
পুতুলের আকার আকৃতি তৈরির পর রুথের মেয়ে বারবারা মিলিশেন্ট রবার্টসের নাম থেকেই তৈরি হল বার্বি। রুথের একটি পুত্রসন্তানও ছিল যার নাম কেনেথ। কেনেথের নাম থেকেই ছেলে পুতুলের জন্য কেন নামটি ঠিক করেন রুথ। তার পরই ‘বার্বি ওয়ার্ল্ড’-এ জুটি বেঁধে ফেলে বার্বি এবং কেন।

সমালোচনা,
বার্বি পুতুল তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর, বার্বি পুতুলের ধারণাটাই আপাদমস্তক ভুল, এই নিয়ে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। বার্বি যেন নারীদের অবাস্তব প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে। গায়ের রঙ, ঘন চুল, নীল চোখ, মেদহীন গঠন নিয়ে প্রশ্ন ছোড়েন নারীরাও।
পরে ১৯৬৮ সালে ক্রিস্টি নামের এক আফ্রিকান-আমেরিকান পুতুলকে বার্বির বন্ধুর পরিচয়ে প্রকাশ্যে আনল ম্যাটেল। একে একে বিভিন্ন ধরণের গঠন এবং বর্ণের পুতুল তৈরি করে বার্বি ওয়ার্ল্ডে যোগ করে ম্যাটেল।

জনপ্রিয় ‘বার্বি গার্ল’ গান,
১৯৯৭ সালে ‘অ্যাকোয়া’ ব্যান্ড থেকে ‘বার্বি গার্ল’ গানটি প্রকাশিত হয়। গানের সংলাপে বার্বি পুতুল নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করা হয় যা নিয়ে ম্যাটেল সংস্থা ওই ব্যান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তবে গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, তা ছোট থেকে বড় সকলের মুখে মুখে ঘুরতে শুরু করে।

বার্বি ড্রিম গ্যাপ প্রজেক্ট,
২০১৯ সালে ‘বার্বি ড্রিম গ্যাপ প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্প চালু করে ম্যাটেল। প্রকল্পটি নারী শিক্ষার উদ্দেশ্যে কাজ করবে। এই প্রজেক্টকে উদ্দেশ্য করেই সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত ‘বার্বি’ চলচ্চিত্রে পরিচালক গ্রেটা বার্তা দিলেন, ‘বিকজ বার্বি ক্যান বি এনিথিং, উইমেন ক্যান বি এনিথিং’।

আলোচনা, সমালোচনা এবং বিতর্ক থাকলেও বার্বির জনপ্রিয়তা কমছেনা। ‘বার্বি’ ছবিটির সাফল্যের উদ্যাপন চলছে গুগলেও। গুগলে গিয়ে ‘বার্বি’ সার্চ করলেই গোলাপি রঙের বাবলে ভেসে উঠছে স্ক্রিন। বার্বি ভক্তরাও গোলাপি সাজে করছে উদ্যাপন, ‘বার্বি’র উদ্যাপন।







