যশোর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের ব্যাপারে সরকার সীমাহীন অবহেলা দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উদীচী। আগামী ৬ মার্চ যশোর হত্যাকান্ড দিবসকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনটি নেতৃবৃন্দ জানান, যশোর হত্যাকাণ্ডের চব্বিশ বছর পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া থেমে আছে। এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় যে, উদীচীর উপর বোমা হামলার সুষ্ঠু বিচার হলে হামলাকারীরা পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক সংঘটিত বোমা হামলার সুযোগ পেতনা। যশোর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান পরবর্তী সময়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তার সুত্র ধরে দু’জনকে গ্রেফতার করার পরও অজ্ঞাত কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের পর মামলাটির তদন্তের ভার সিআইডির হাতে ন্যস্ত হয়েছিল। কিন্তু আজ অবধি আমরা তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি।
প্রায় দুই যুগ আগে ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে বাউল গানের অনুষ্ঠানে দুই দফায় মঞ্চের নিচে আগে থেকে পুতে রেখে দেয়া বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এক ভয়ানক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়। ধর্মান্ধ, উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর চালানো ঐ নৃশংস হামলায় প্রাণ হারান ১০ জন শিল্পী-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- নূর ইসলাম, নাজমুল হুদা, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, ইলিয়াস মুন্সী, শাহ আলম বাবুল, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম, সৈয়দ বুলু, রতন রায় ও রামকৃষ্ণ। আহত হন দেড় শতাধিক মানুষ, যাদের অনেকেই এখনও পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে জীবন যাপন করছেন।
২০০৬ সালের ৩০ মে মামলার রায়ে সকল আসামীদের বেকসুর খালাশ দিয়ে আদালত তিরস্কার করে বলেছিলেন, প্রায় কোনো রকম তদন্ত ছাড়া এই বোমা হামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। যশোর হত্যামামলার পুনঃতদন্ত ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
‘দুই যুগেও হয়না বিচার! এই লজ্জা ও অপমান কার?’ এই স্লোগান নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালিত হবে যশোর শহরে। তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ‘রং তুলিতে প্রতিবাদ’ শীর্ষক ২৪ জন চিত্রশিল্পীর চিত্রাংকন, গ্রাফিতি অংকন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও শ্রেণি পেশার বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভা, যশোর টাউন হল ময়দানে নির্মিত শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন, যশোর টাউন হল ময়দানে প্রতিবাদী সমাবেশ, প্রদীপ প্রজ্জ্বালন, মশাল মিছিল ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত যশোর হত্যাকান্ডের শত ছবির প্রদর্শনী।
এ ছাড়াও দেশের সকল জেলা ও শাখায় যশোর হত্যাদিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। ৬ মার্চ কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ-এর পদ্মাপারের জেলা ও শাখাসমূহের যশোরে আয়োজিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।








