দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে দেশের মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছে, সহ্য করেছে অবর্ণনীয় নির্যাতন। এখন সময় সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা দিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিগত বছরগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, দেশে সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তার জন্য বাংলাদেশের মানুষ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লড়াই করেছে। এই অধিকার ফিরে পেতে বহু মানুষ গুম, খুন ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। লক্ষ মানুষের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা পুনরায় বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ পেয়েছি।
তারেক রহমান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ আজ বুকভরা আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, তার প্রতিদান আমাদের দিতেই হবে।
উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও তৌহিদি জনতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আজ আল্লাহর নামে আমরা এই শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামী দিনের সব কাজ ও পরিকল্পনা হবে কেবল দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির সেবা করাই হোক আমাদের একমাত্র ব্রত।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজক দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর নায়েবে আমির শফিক সাহেবসহ সব নেতৃবৃন্দকে এই সুন্দর মাহফিলে আমাকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এর আগে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইফতার মাহফিলে পৌঁছালে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই ইফতারে যোগ দেন।
এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইফতার মাহফিলের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। ওই সাক্ষাৎকালেই প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানান।
এ ছাড়া দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান টেলিফোনে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীকে স্ত্রী ও সন্তানসহ সপরিবারে ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানান।








