খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, নির্বাচনে কারণে চাতাল ও মিল বন্ধ থাকার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা ধান চালের দাম বাড়িয়েছিল যদিও দাম বাড়ার কোন কারণ ছিল না।
খাদ্য ভবনে ধান চাল ব্যবসায়ীদের ডেকে এনে মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে মূল্য বাড়িয়েছে সেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে ৪ দিনের মধ্যে কমাতে হবে। মজুদ ও মুল্য মনিটরিংয়ে আগামীকাল থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে ।
মন্ত্রী নিজের বাড়ি থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করেছেন উল্লেখ করে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপারেশনে আছে। ব্যবসায়িক সূত্র বা ইকোনমিক্স থিওরিতে বলে যখন চাহিদা বেশি হয় তখন দাম বাড়ে, সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ে। আমি তো এই মুহূর্তে সরবরাহ কমের কোনো অবস্থা দেখছি না। প্রচুর ধান আছে। সরবরাহ যাতে না কমে যায় তার জন্য আমরা ইতোমধ্যে ট্যাক্স ফ্রি করে দিয়ে আমদানি করার চেষ্টা করছি, আমাদের ফাইল প্রসেসে আছে। হয়ত আমরা এটা ২-৪-৫ দিনের মধ্যে ফাইনাল করব। কারণ অযথা স্টক করে রেখে পরে আবার বলবেন, আমরা মরে গেলাম, মরে গেলাম। এ কথা যাতে না শুনি।
ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য টিম করা হয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কন্ট্রোল রুম খুলেছি, আমাদের অভিযান চলছে। আগামীকাল দেশের ৮টি বিভাগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরই মধ্যে অভিযান চলছে। অভিযানে যার কাছে অবৈধ মজুত পাওয়া যাবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
দাম বৃদ্ধির ঘটনাটা কোন স্তর থেকে ঘটেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা চালের দাম না কমলে প্রয়োজনে আমদানির কথা বলেছেন। এ অবস্থায় কী পরিমাণ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমদানির জন্য শূন্য শুল্কের জন্য ফাইল তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে বা আমাদের যখন প্রয়োজন হবে তখন আমরা আমদানি করব।
বর্তমানে দেশে আমন মৌসুম চলছে। ১৭ লাখ মেট্রিক টন ধান চাল মজদ আছে। এখনই আমদানির কোন প্রয়োজন নেই বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী।
নতুন সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগ পুনরায় শপথ গ্রহণের দুইদিন আগে থেকে থাকে ধান চালের দাম বাড়তে থাকে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে চালের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ জানতে খাদ্য ভবনে ব্যবসায়ীদের ডেকে আনেন খাদ্যমন্ত্রী।








