এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এলডিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনা ১১ দলের ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হচ্ছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, গতকাল রাতে দলগুলোর লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ রাতে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাকি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হওয়ার আশা করা হচ্ছে। দুই-একটি আসন নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেই সমাধান হয়ে যাবে।
তবে জোটভুক্ত একাধিক দলের নেতা জানিয়েছেন, আসন ছাড়ের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী কিছুটা কুণ্ঠাবোধ করছে। দলীয় সূত্রের দাবি, জামায়াতে ইসলামী ১১০টিরও বেশি আসন ছাড়তে পারে, যদিও বিষয়টি আজ রাতের বৈঠকে চূড়ান্ত হবে। জামায়াতে ইসলামীর অন্তত দুইজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে দলটি যেমন আশাবাদী, তেমনি কিছুটা আশঙ্কাও রয়েছে। তবে শীর্ষ নেতাদের আলোচনায় সে আশঙ্কা দূর হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
জোট সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী প্রায় ১৯০টি আসনে নির্বাচন করতে পারে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৪০টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫টি, খেলাফত মজলিস ৭টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি এবং জাগপা ১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। বাকি ৫টি আসনে জোটের অন্য তিনটি দল প্রার্থী দেবে।
জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতকালের বৈঠকে আপাতত ৪০টি আসনেই সন্তুষ্ট থাকলেও, আজকের শূরা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত এবং রাতে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর আসন সংখ্যা চূড়ান্ত হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এই সংখ্যা ৪০টির বেশি হতে পারে।
এদিকে, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ গণমাধ্যমকে বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এখনো আগের অবস্থানেই রয়েছে। আজকের বৈঠকের ওপরই নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কত আসনে সমঝোতা হয়।
সব মিলিয়ে, আজ রাতের বৈঠক এবং বুধবারের সংবাদ সম্মেলনের দিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক অঙ্গন।









