রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ‘লাল পাসপোর্ট’ পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার যুবক মো. রিয়াদ রশিদ (২৮)। তবে ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় সেই স্বপ্নই শেষ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে রিয়াদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। নিহত রিয়াদ রশিদ বাঁশহাটি গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর দুই বছরের চুক্তিতে ‘চায়নাসিনোপিক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় যান রিয়াদ। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। তার ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫।
রিয়াদের চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর রিয়াদ তাকে বলেছিলেন, রাশিয়ান ‘লাল পাসপোর্ট’ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন। সেই আশাতেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
ছোট ভাই আলতাফ রশিদ বলেন, ভাই বলেছিলেন! সব কাগজপত্র সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে পরিবারের সবাইকে রাশিয়ায় নিতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগদানের সংযোগ করে দেওয়া ব্যক্তিকে প্রায় ১২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া রিয়াদের কাছে আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকা ছিল, যা দেশে পাঠাতে পারেননি।
পরিবারের দাবি, গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় সেনা নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। ওই হামলাতেই নিহত হন রিয়াদ রশিদ।
আলতাফ রশিদ বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল ২৮ এপ্রিল। ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে ম্যাসেঞ্জারে অনলাইনে দেখা গেছে। পরে তার সহকর্মী লিমন দত্ত জানায়, ড্রোন হামলায় রিয়াদের দেহ পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে।
রিয়াদের বাবা, জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়-এর সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, সে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা আমাকে জানায়নি। জানলে কখনোই যেতে দিতাম না। এখন ছেলের লাশেরও সন্ধান পাচ্ছি না। একজন বাবা হিসেবে এই কষ্ট সহ্য করা খুব কঠিন।
এ বিষয়ে জাফরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো.সায়েম বলেন, রিয়াদ আমার স্নেহের ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। বিষয়টি জানার পর তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার সুযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে এবং মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।








