ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাদের সমাগম ঘটানোর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বীর আবাসিক হলের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
সিট বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাব্বীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদের করা এক রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দিয়েছেন।
আদালত তার রুলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ও আইন বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়েছেন। বুয়েট উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আদালত বলছেন, ‘ঘটনার বিষয়ে বুয়েটের গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান থাকবে।’ আদালতে সোমবার রাব্বীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শাহ মঞ্জরুল হক।

এর আগে রাব্বির করা এক রিটের শুনানি শেষে গত ১ এপ্রিল বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে ওই সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর আন্দোলনের মুখে ওই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, দপ্তর সম্পাদকসহ অনেকে বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে ফের আন্দোলন শুরু হয়। অনেক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বি এ সমাগম ঘটান। পরদিন বিকালে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখান। এরপর রাতে বুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফোরকান উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বির হলের সিট বাতিল করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে ৮ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
অন্যদিকে ইমতিয়াজকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করাসহ ছয় দফা দাবিতে ৩১ মার্চ সকাল থেকে ফের বিক্ষোভের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে ওইদিন সকাল থেকে ক্যাম্পাসে তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। অন্যদিকে বুয়েট ছাত্র রাজনীতি ফেরানোর দাবিতে রোববার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার পর নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। একপর্যায়ে বুয়েট শহীদ মিনারে ফুল দেন তারা। সে সময় বুয়েটের মূল ফটক এবং বিভিন্ন হলের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।







