প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দেশের সমস্যা সমাধান করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করার মধ্যেই শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা। তাই শিক্ষাজীবন শেষে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
রোববার ১১ অক্টোবর গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে সক্ষম এমন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান বের করার সক্ষমতাও থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা ব্যয়বহুল প্রযুক্তি বা সমাধানের খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। উন্নত প্রকৌশল ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি পরিবারের কাছে মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। আইইউটির শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও মনন কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা এমন এক সময়ে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছেন, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের নতুন নতুন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
আইইউটির আন্তর্জাতিক পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আমরা গর্বিত। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এখানে আসেন এবং শিক্ষা অর্জনের জন্য একটি অভিন্ন ক্ষেত্র পান। বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা এসব সম্পর্ক ভবিষ্যতে গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারেও এ প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সাতজন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী ওআইসি গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। অন্য ছয়জন শিক্ষার্থী পান আইইউটি গোল্ড মেডেল।
শিক্ষামন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের গলায় পদক পরিয়ে দেন এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেন।






