এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আজ সকালে রাজধানী ঢাকায় ঘন কুয়াশা দেখা গেছে, যা গতকালের মতোই সকালজুড়ে ছিল। তবে আজ ঢাকাসহ সারা দেশে তাপমাত্রা গতকালের তুলনায় কিছুটা কমে শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে।
আজ (৩ জানুয়ারি) শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা পাওয়া গেছে তিনটি জেলায়; নওগাঁর বদলগাছি, পাবনা ও রাজশাহীতে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে সার্বিকভাবে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে, যদিও রাজধানীতে আজ শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
ঢাকা বিভাগ
ঢাকা বিভাগে শীতের তীব্রতা মাঝারি মাত্রায় রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে প্রায় ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গাজীপুরে তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি, ফরিদপুরে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি, মাদারীপুরে ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং টাঙ্গাইলে প্রায় ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ও সকালে কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগ
রাজশাহী বিভাগে শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বগুড়ায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি, নওগাঁয় ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি, নাটোরে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং পাবনায় ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এই অঞ্চলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
রংপুর বিভাগ
রংপুর বিভাগে শীত সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। দিনাজপুরে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, নীলফামারীতে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামে ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি এবং রংপুরে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
ময়মনসিংহ বিভাগ
ময়মনসিংহ বিভাগেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট। ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জামালপুরে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি, শেরপুরে ১৩ ডিগ্রি এবং নেত্রকোনায় ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগ
সিলেট বিভাগে শীতের পাশাপাশি কুয়াশার প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নেমেছে প্রায় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন। সিলেটে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি, মৌলভীবাজারে ১২ ডিগ্রি এবং হবিগঞ্জে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগ
চট্টগ্রাম বিভাগে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি হলেও শীত অনুভূত হচ্ছে। চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুমিল্লায় ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ফেনীতে ১৫ ডিগ্রি, কক্সবাজারে ১৬ ডিগ্রি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগ
খুলনা বিভাগে শীতের তীব্রতা মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরে ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি, কুষ্টিয়ায় ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি, ঝিনাইদহে ১৪ ডিগ্রি এবং সাতক্ষীরায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগ
বরিশাল বিভাগে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও ঠান্ডা বাতাসে শীত অনুভূত হচ্ছে। বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পটুয়াখালীতে ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি, ভোলায় ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ঝালকাঠিতে ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং পিরোজপুরে ১৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়ার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে সেটিকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শীতের এই ধারা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।








