মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে এক ফিলিং স্টেশনের পরিত্যক্ত তেলের ট্যাংক জুনায়েত (১২) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।নিহত জুনায়েদ স্থানীয় নয়াপাড়া এলাকার নুর হোসেনের ছেলে।
রোববার (১৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কয়ে কঘন্টার প্রচেষ্টায় হাসাড়া এলাকায় ফিলিং স্টেশনের ট্যাংকি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাব্বির আহমেদ নাসিমের মালিকানাধীন ফিলিং স্টেশনটি প্রায় ১ মাস ধরে বন্ধ ছিল। এটি পুনরায় চালু করার জন্য ট্যাংক পরিস্কারের কাজ চলছিল। কিন্তু কি কারণে এর মুখ খোলা রাখা হয়েছিল তা কেউ বলতে পারছে না। সেখানে আলমপুরের রাহাত (১২) এক ছেলে কাজ করতো, রাহাতের সাথে জুনায়েত এসে প্রায় খেলা করতো। রোববার সংশ্লিষ্টরা পাম্পে কাজ করার সময় জুনায়েতের মরদেহ ট্যাংকির ভিতরে দেখতে পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কীভাবে জুনায়েতের মরদেহ তেলের ট্যাংকিতে আসলো সে বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশু রাহাতকে এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে, উদ্ধার কাজে করার সময় রাত ১০টার দিকে ট্যাংকিতে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে রাসেল (২২) নামের এক দমকলকর্মী সহ ৫ জন আহত হয়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আশিকা কবির বলেন, এ ঘটনায় আহত ৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি রয়েছেন।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর আবুল কাল আজাদ জানান, তেলের ট্যাংকিতে শিশু মরদেহের খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। তবে ট্যাংকিতে প্রচুর গ্যাস জমে থাকায় ব্যাহত হয় তৎপরতা। রাত ১০টার দিকে বিস্ফোরণে কয়েকজন আহত হয়। পরে আবারো চেষ্টায় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তবে এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফিলিং স্টেশনের কাউকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউয়ুম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, জুনায়েতের মরদেহ পাওয়া গেলেও রাহাতকে এখনো পাওয়া যায়নি। মৃতদেহটি সেখানে গেলো কিভাবে এবং কি ঘটেছিলো সে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত সকল ব্যবস্থা করা হবে।








