জাতিসংঘের ডায়নামিক টিন কোয়েলেশন (ডিটিসি) -এর বোর্ড মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের ওমর ফারুক। বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্যে জাতিসংঘের বৈশ্বিক ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা আইজিএফ কর্তৃক ‘প্রজেক্ট ওমনা’ তৈরি করায় তাকে এ পদে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়াও জাতিসংঘের ৭০ এর অধিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পলিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছে ওমর ফারুক।
সে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজকাপন ইউনিয়নে নীলগঞ্জ গ্রামের কুয়েত প্রবাসী জাকির হোসেনের একমাত্র ছেলে। তারা বর্তমানে শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় বসবাস করে। ওমর ফারুক ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, ওমর ফারুক বিশ্বের ৪ মহাদেশ থেকে বিনা আবেদনে যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হওয়া ৪ জন বোর্ড মেম্বারদের একজন। তার সাথে নিয়োগ প্রাপ্ত অন্য তিনজনের নাম যথাক্রমে ইয়োমা সইরিয়ান্তো (অস্ট্রেলিয়া) সিয়ান স্পিগল (যুক্তরাষ্ট্র) এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত হংকংয়ের অধিবাসী লো বরিস। ওমর ফারুক শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে ‘প্রজেক্ট ওমনা’ নামক একটি এআই নির্ভর মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজ করছে। ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতে তার কৃতিত্বের জন্য তাকে বোর্ড মেম্বার হিসেবে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
ওমর ফারুক ইতোমধ্যে জাতিসংঘের ৭০ এর অধিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পলিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়াও জাতিসংঘ ও তার সহযোগী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের মেম্বার হিসেবে সারাবিশ্বের পলিসিগুলোকে শিশু ও তরুণদের জন্য আরও বেশি উপযুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
ওমর ফারুক তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও টেক এনভয় আমানদিপ সিং কর্তৃক আইকনিক খেতাব অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল কোর্সে তার সাক্ষাৎকার দেখানো হয়েছে। সে বিশ্বের একমাত্র শিশু প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের হেডকোয়ার্টার এ অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ডিজিটাল কম্পেক্ট সেশনগুলোতে স্টেটমেন্ট দিয়েছে। তাছাড়াও সে আইজিএফ এর বার্ষিক সভায় সবচেয়ে সক্রিয় সদস্যদের একজন ছিল।
ওমর ফারুক জানায়, করোনার সময় আমি যখন ঘরে বন্দী সময় পার করছিলাম তখনই আমি অনলাইনে এই কাজগুলোকে খুঁজেছি কিভাবে শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট উপহার দেয়া যায়। সেই থেকে আমি কাজ শুরু করেছি আজকে আমার এই অবস্থানে এসেছি।
সে আরও জানায়, এরই মধ্যে আমি গত ৩বছর ধরে বিশ্বের শিশু ও যুবকদের অধিকার নিশ্চিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পলিসি ইভেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতিসংঘের ডিটিসির একজন বোর্ড মেম্বার হওয়া জন্য অফার করেছে। এই অফার আমার সত্যিই অনেক আনন্দের। আমি ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিকে মানব কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই। এমন কিছু করতে চাই যা আগে কেউ করতে পারেনি। সামনে আরও এগিয়ে যেতে সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশী।
ওমর ফারুকের মা রোকেয়া আক্তার জানান, প্রথম যখন আমার ছেলে মোবাইল হাতে নিতো তখন আমার খুবই ভয় হতো। কারণ মোবাইলে সময় নষ্ট হচ্ছে বা কোনো খারাপ কাজ করে ফেলতেছে কিনা? পরে যখন দেখলাম ছেলে ভালো কাজ তখন তাকে মোবাইল ব্যবহার করতে আর বাধা দেইনি। আজকে যখন জানতে পারলাম দেশের বাহিরেও নাম করছে তখন আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। আমি এখন মনে করি এই প্রযুক্তির যুগে মোবাইল শিশুদের ব্যবহার করতে দিতে হবে তবে অভিভাবকদেরকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে ভালো দিকটা ব্যবহার করে। আমি আশা করি আমার ছেলে দেশকে বিশ্ব দরবারে আরও সামনের দিকে নিয়ে যাবে।
গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. মুশতাকুর রহমান জানান, বিজয়ের মাসে এমন একটি ভালো সংবাদে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক আরও সামনে এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশাই করছি। এমন মহৎ কাজের পাশে আমরা আছি তাকে যেকোন সহযোগিতা করব।








