বিশ্বের প্রতিটা শহরের বিশেষ আকর্ষণ থাকে সেই শহরকে পরিচয় দেয়ার জন্য। ঠিক পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেরও হয়েছে তাই। একটি প্রাচীন ট্রাম শহরের আত্মার প্রতীক বলে বিবেচনা করা হয় লিসবন কে ৷ লিসবন ট্রামের ইতিহাস অত্যন্ত রঙিন এবং ঐতিহাসিক।
লিসবন শহরটি তার ট্রাম সিস্টেমের জন্য পৃথিবীজুড়ে পরিচিত। লিসবন শহরের বিখ্যাত ২৮-ই নম্বর ট্রাম এটি ১৮৭৩ সালে প্রথম চালু হয় এবং ১৯ শতকের শেষের দিকে শহরের পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
লিসবনের ট্রাম সিস্টেম মূলত ঐতিহাসিক অঞ্চলের মধ্যে পরিবহন সেবা প্রদান করে এবং তার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ট্রামগুলি শহরের অলি-গলি, উঁচু পাহাড়ি রাস্তা এবং সরু সড়কগুলির মাধ্যমে চলে। আজকের ট্রামগুলি মূলত ঐতিহাসিক রূপে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন।
লিসবনের ট্রাম ২৮-ই নম্বরটি সবচেয়ে বিখ্যাত এবং এটি শহরের প্রধান ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্য দিয়ে চলে, যেমন আলফামা, গ্র্যাশিয়া, এবং বেইরো আল্তো। এই ট্রামটি বেশিরভাগ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়, কারণ এটি লিসবনের পুরনো সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
বিশ্বযুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও লিসবনের ট্রাম সিস্টেম টিকে গেছে এবং আজও শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে লিসবন ট্রাম শুধুমাত্র পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবেই নয়, একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
মার্তি মুনিশ চত্বর থেকে এই ট্রাম টিলার উপর সাঁও ভিসেন্তি দি ফোরা মনাস্ট্রি পর্যন্ত যাত্রীদের নিয়ে যায়৷ তাতে এখনো প্রাচীন কাঠের বেঞ্চে বসার সুযোগ রয়েছে৷ শহরের পুরানো আলফামা পাড়ার মধ্য দিয়ে ট্রাম চলে৷ আগে রক্ষীরা সেখানে যান নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন ট্রাফিক লাইট সেই কাজ করে৷ নুনো কামাশো এ প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দেন, ‘‘এখান থেকে একটিমাত্র ট্র্যাক রয়েছে৷ অন্য ট্রাম বা গাড়ি উলটো দিক থেকে আসতে পারে বলে খুব সাবধান থাকতে হয়৷’’
জানালা দিয়ে হাত বাড়ালেই এখানে ঘরবাড়ি ছোঁয়া যায়৷ আলফামা লিসবনের প্রাচীনতম অংশের মধ্যে খকটি ৷ সেখানকার উঁচুনীচু পথ ও সরু অলিগলির কথা ভেবেই এই ট্রাম তৈরি করা হয়েছিল৷ শহরের নানা ভিউয়িং পয়েন্ট থেকে পর্যটকরা এই ট্রামে ওঠানামা করেন৷ তেশু নদীর মোহনার দৃশ্য তাঁরা উপভোগ করেন এই ট্রামে চড়েই।
ট্রামের যাত্রাপথে একের পর এক দ্রষ্টব্য রয়েছে৷ সান্টা লুসিয়া গির্জার বাইরে রং করা চিনামাটির টাইলস শোভা পাচ্ছে৷ লিসবনের বর্ণাঢ্য ইতিহাস তাতে ফুটে উঠেছে৷ পরের স্টপ ‘সে পাত্রিয়ার্কাল’৷ শহরের সবচেয়ে প্রাচীন গির্জার পাশ দিয়ে খাড়া পথ নেমে গেছে এই লাইন ৷ ট্রাম চালানোর কায়দা সম্পর্কে চালক নুনো কামাশো বলেন, ‘‘ট্রামের একাধিক ব্রেক রয়েছে৷ একটি অকেজো হলে অন্যটি ট্রাম থামাতে পারবে৷ চালাতে গেলে হাতল সামনে ঘোরাতে হয়৷
টেনে ধরলে চাকা পিছনদিকে ঘুরে ব্রেক করে৷ এটা নিউম্যাটিক ব্রেক, এটা ম্যাগনেটিক এবং অন্যটি হ্যান্ড ব্রেক৷’’ আমি প্রায় ২০ বছর ধরে ট্রামের চালক হিসাবে আছি সত্যি অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না বিশ্বের বিভিন্ন দের নাগরিকরা লিসবন শহরে আসে শুধু মাত্র এই ট্রামে ভ্রমণের জন্য।
‘
কালসাদা দে সাঁও ফ্রানসিস্কো’ নামের রাস্তায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ খাড়া পথ বেয়ে উঠতে হয়৷ বিশ্বের অন্য কোনো ট্রাম সেটা পারে না যা রয়েছে এই লিসবনের ২৮-ই তে ট্রামে।








