বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিস্ময়ের নাম তারেক রহমান। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হয়ে যাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, প্রায় দুই দশক পর সেই তিনিই আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ উনিশ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তার উত্থানকে অনেকে এক মহাকাব্যিক যাত্রা হিসেবে দেখছেন।
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পট পরিবর্তনের সূচনা করে। সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পর শুরু হয় তথাকথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিরাজনীতিকরণ। সেই সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তারেক রহমানকে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর শারীরিক নির্যাতনের মুখেও পড়তে হয় তাকে। পরে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন তিনি। দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখান থেকেই দলকে সংগঠিত করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন তিনি।
এর মধ্যে দেশের রাজনীতিতে আরেকটি বড় পরিবর্তন আসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই আন্দোলনের সময় লন্ডন থেকে দলকে দিকনির্দেশনা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার মাত্র তিনদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তারেক রহমানকে।
পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রায় ১৯ বছর পর বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসেন তিনি।
যে তারেক রহমান ১৯ বছর আগে এই দিনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং যাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, সেই তারেক রহমানই আজ বিপুল জনসমর্থনে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে।







