এখনও সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় থালাপতি বিজয়ের শেষ ছবি ‘জন নায়াগন’। ছবির ছাড়পত্র সংক্রান্ত মামলাটি বর্তমানে মাদ্রাজ হাই কোর্টে বিচারাধীন।
খবর বলছে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কেভিএন প্রোডাকশনের দায়ের করা আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে মাদ্রাজ হাইকোর্টে। সেখানে সেন্সর বোর্ডের তরফে দাবি করা হয়, নির্মাতাদের যে পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তা ‘ইন্টারমিডিয়েট’, অর্থাৎ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
এই মামলার শুনানির সময় সেন্সর বোর্ডের আইনজীবী নাকি জানান, গত ৬ জানুয়ারিই প্রযোজকদের জানানো হয়েছিল যে ‘জন নায়াগন’ ছবিটি রিভাইজিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে, যদিও তার আগে এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যেন সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়ে গেছে। পাশাপাশি, আগের শুনানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি একক বিচারপতির বেঞ্চে বিষয়টি ওঠার আগে সেন্সর বোর্ডের কাছে পাল্টা হলফনামা দাখিল করার মতো পর্যাপ্ত সময়ই ছিল না।
শুনানিতে আরও প্রশ্ন তোলেন সেন্সর বোর্ডের পক্ষের ওই আইনজীবী। তার বক্তব্য, ছবির প্রযোজকরা প্রকাশ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের দাবি করছেন। অথচ সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না নিয়েই কীভাবে তারা ছবির মুক্তির তারিখ ঘোষণা করলেন, সেই বিষয়টি নিয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
শোনা যাচ্ছে, দুপুরের পর প্রযোজকদের পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই মামলার রায় স্থগিত রেখেছে।
‘জন নায়াগন’-এর মুক্তি নিয়ে জটিলতা উত্তরোত্তর বাড়ছে। এর আগে, মাদ্রাজ হাইকোর্টের একক বিচারপতির বেঞ্চ ছবিটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার উপর স্থগিতাদেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এরপর সেই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেভিএন প্রোডাকশনস। তবে শীর্ষ আদালত বিষয়টি শুনতে অস্বীকার করে এবং প্রযোজকদের আবার হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬-এর মধ্যেই হাই কোর্টে এই মামলার শুনানি সম্পন্ন করতে হবে।
থালাপতি বিজয়ের ‘জন নায়াগন’ ৯ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই সেই মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়। মাসের শুরুতে এক বিবৃতিতে নির্মাতারা জানিয়েছিলেন, “অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা আমাদের দর্শক ও অংশীদারদের এই আপডেট জানাচ্ছি। ৯ জানুয়ারি মুক্তির জন্য প্রতীক্ষিত ‘জন নায়াগন’ কিছু অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে আপাতত মুক্তি পাচ্ছে না, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”
শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির মুক্তি কবে নাগাদ হতে পারে, সেটি নিশ্চিত নয়। অনেকে মনে করছেন, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া এবং ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারকে সমালোচনা করার কারণেই নিজের শেষ সিনেমা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে বিজয়কে!








