থাইল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে দেশটির শীর্ষ আদালত যা প্রভাবশালী রাজনৈতিক রাজবংশের জন্য আরেকটি ধাক্কা।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এই রায় পূর্ববর্তী একটি মামলার সাথে সম্পর্কিত যেখানে দুর্নীতির জন্য তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
২০০১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে থাকসিন এবং তার পরিবার থাই রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তার মেয়ে পায়োংটার্ন পূর্বে নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন কিন্তু গত মাসে একটি ফাঁস হওয়া ফোন কলের কারণে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই থাকসিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন, “যদিও আমি শারীরিক স্বাধীনতা হারিয়েছি, তবুও আমার দেশ এবং এর জনগণের স্বার্থে আমার চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে।”
তিনি রাজতন্ত্র, থাইল্যান্ড এবং এর জনগণের সেবা করার জন্য তার শক্তি বজায় রাখারও অঙ্গীকার করেছিলেন।
২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং বেশিরভাগ সময় তিনি দুবাইতে স্ব-আরোপিত নির্বাসনে কাটান।
২০২৩ সালে তিনি থাইল্যান্ডে ফিরে আসার পর তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার শুরু হয়। ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
তবে থাকসিন মাত্র কয়েক ঘন্টা কারাগারে কাটানোর পর তার হৃদরোগের কথা উল্লেখ করেন। পরে থাইল্যান্ডের পুলিশ তাকে জেনারেল হাসপাতালের একটি বিলাসবহুল শাখায় স্থানান্তরিত করে। এ কারণে তিনি জেল কক্ষে এক দিনেরও কম সময় কাটিয়েছিলেন।
এই রাজকীয় ক্ষমার আবেদনের পর, থাই রাজা তার সাজা কমিয়ে এক বছরে নিয়ে আসেন। এরপর থাকসিন ছয় মাস হাসপাতালে থাকার পর প্যারোল পেয়ে ব্যাংককে তার বাড়িতে চলে যান।
মঙ্গলবার ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, হাসপাতালে তার এই স্থানান্তরটি বেআইনি ছিল এবং ৭৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে কারাগারে তার সাজা ভোগ করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক বলেছেন, থাকসিন জানতেন তিনি গুরুতর অসুস্থ নন। তার দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থাকলেও, তাকে বহির্বিভাগের রোগী হিসেবে চিকিৎসা করা যেত।
এই রায় দেয়ার সময় বিচারক বলেন, তার হাসপাতালে থাকা অবৈধ। থাইল্যান্ডে “১৪তম তলা মামলা” নামে তিনি হাসপাতালের যে তলায় ছিলেন, তা বিশেষভাবে তদন্ত করা হয়েছে।
এ মামলার ফলে অনেক থাই নাগরিক বলছেন, ধনী ও ক্ষমতাবানদের প্রায়শই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ রায়ের আগে অনেকেই থাকসিনের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
গত সপ্তাহে তিনি একটি ব্যক্তিগত জেটে থাইল্যান্ড থেকে দুবাই যান। তখন চিকিৎসার জন্য দুবাই যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। তিনি আদালতের শুনানির জন্য ফিরে যেতে চান বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান।
মঙ্গলবার সকালে থাকসিন হলুদ টাইসহ একটি স্যুট পরে পায়েটোংটার্নের সাথে ব্যাংককের আদালতে হাজির হয়ে মিডিয়া এবং সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান। তার এই পোশাক থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত।
রায়ের পর পায়েটোংটার্ন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তার বাবার জন্য চিন্তিত।
বিরোধী দল হিসেবে পরিবারের ফিউ থাই দলকে তাদের কাজে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে থাকসিনের মামলাটি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার আদালতের রায় সিনাওয়াত্রা বংশ এবং ফিউ থাইয়ের ভাগ্য পরিবর্তনের আরেকটি লক্ষণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
এই মামলা ছাড়াও থাই রাজাকে অপমান করার জন্য তার বিরুদ্ধে আলাদাভাবে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে গত মাসে একটি আদালত তাকে লেসে-ম্যাজেস্টে থেকে খালাস দিয়েছে।
এদিকে থাই-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাতের বিষয়ে কম্বোডিয়ার নেতা হুন সেনের সাথে তার একটি ফোন কল ফাঁস হয়। যেখানে তাকে চাচা’ বলে সম্বোধন করায় পায়েটোংটার্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
সাংবিধানিক আদালত নীতিগত মান লঙ্ঘন করার অভিযোগে তাকে পদ থেকে অপসারণ করে।
গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের সংসদ অনুতিন চার্নভিরাকুলকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে, যা দুই বছরের মধ্যে তৃতীয়বার।
অনুতিনের ভুমজাইথাই দল ফিউ থাইয়ের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে যায়। তারা প্রধানমন্ত্রী পদ জয়ের জন্য অন্য দলের কাছ থেকে পার্লামেন্টে যথেষ্ট সমর্থন অর্জন করেছে।








