জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সংঘটিত ৯ জন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ।
সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথমে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর শুরু হবে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব।
এর আগে গত ৮ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ডিফেন্স আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর কারণে ট্রাইব্যুনাল একদিনের জন্য কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। মামলাটিতে বর্তমানে চারজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক এবং ফজলে রাব্বি। অন্যদিকে মামলার বাকি আসামিদের অধিকাংশই পলাতক।
তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এম এ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রনসহ আরও কয়েকজন।
গত ১০ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোহাম্মদপুর এলাকায় নৃশংস হামলা ও গুলিবর্ষণ চালায়। আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ, উসকানি এবং উপস্থিতিতে সংঘটিত ওই ঘটনায় মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। এছাড়া আহত হন বহু ছাত্র-জনতা।







