রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রায় ১৫-২০ জন সদস্যরা সন্ত্রাসী গ্যাং তৈরি করে গত ৪-৫ বছর ধরে মোহাম্মদপুর, আদাবর, বেড়িবাধ ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো।
সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হামলা করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও কবজি বিচ্ছিন্ন করা একটি গ্রুপের সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন-র্যাব।
শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত বাগেরহাট ও রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-২ ও র্যাব-৬।
গ্রেপ্তাররা হলেন-আহমেদ খান (২২), মো. হাসান ওরফে গুটি হাসান (২৪), মো. হানিফ হোসেন জয় (২৪), রমজান (২৩), মো. রাজু (১৯), মো. রাফিদুল ইসলাম রানা ওরফে রাফাত (২৩), তুষার হাওলাদার (২৩)।এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব এর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আরমান নামের এক যুবকের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে তার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে। এ ঘটনায় রাজধানীর মোহাম্মদ থানায় গত ২৭ আগস্ট একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী আরমান। পরে র্যাব-২ এর একটি দল রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আরমান নামের ওই যুবকের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে তার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালকারী মো. রাফিদুল ইসলাম রানা ওরফে রাফাত (২৩) ও তার সহযোগী তুষার হাওলাদারকে (২৩) বাগেরহাট থেকে র্যাব-৬ এর আভিযানিক দল গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে খন্দকার আল মঈন বলেন, তারা সবাই রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। প্রায় ১৫-২০ জন সদস্যের সন্ত্রাসী এ গ্যাং রাফাত, তুষার ও আনোয়ারের নেতৃত্বে গত ৪-৫ বছর ধরে মোহাম্মদপুর, আদাবর, বেড়িবাধ ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তারা পথচারীদের একা পেলে হঠাৎ করেই চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করতো। চাঁদাবাজিসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা উদ্যান, আদাবর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারামারিসহ বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতো। এমনকি বিভিন্ন ব্যক্তির স্বার্থ হাসিলের জন্য ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবেও কাজ করতো।
কবজি বিছিন্ন করার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন: পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তুষার ভুক্তভোগী আরমানের বাম হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে এবং রাফাত ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে ভুক্তভোগী আরমানের ডান হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন করে।
রাফিদুল ইসলাম রানা ওরফে রাফাত মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় বিগত ৪-৫ বছর ধরে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পরিচালনা করতো। ঘটনার পর গ্রুপের প্রধান হিটম্যান হিসেবে পরিচিতি রাফাত ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে প্রথমে ফরিদপুরের একটি মাজারে গিয়ে কয়েকদিন অবস্থানের পর বাগেরহাটে আত্মগোপনে চলে যায়। গ্রেফতার তুষার হাওলাদার সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিকল্পনা করতে আর আহমেদ খান টার্গেট করতেন। কবজি বিচ্ছিন্নে ঘটনার সময় রাফাত ও তুষারের সঙ্গে আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া হাসান ওরফে গুটি হাসান, হানিফ হোসেন জয়, রমজান ও রাজু এ সন্ত্রাসী গ্রুপের সহযোগী সদস্য ও বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতো।








