গত ১১ অক্টোবর নর্থ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাউথ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মধ্যেরাতে নর্থ কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ করেছে। সাউথ কোরিয়া প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে দেশটির জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ বলেছেন, তারা এই অভিযোগকে নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে দুই কোরিয়ায় বাড়ছে উত্তেজনা।
আজ (১৬ অক্টোবর) বুধবার একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, নর্থ কোরিয়া তাদের আকাশে উড়ে যাওয়া ড্রোনগুলোর অস্পষ্ট ছবিও প্রকাশ করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এতদিন সাউথ কোরিয়া সাগরে একের এক মিসাইল ছুঁড়তেন। তবে এখন সাউথ কোরিয়া থেকে দেশটিতে ড্রোন পাঠানোর ঘটনা দুই কোরিয়ার উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তুলেছে এমনকি যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আলোচনা ছাড়াই প্রতিরোধের অপারেশন
নর্থ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, সোমবার কিম দেশটির সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে, কিম অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করেন এবং কর্মকর্তাদের যুদ্ধ প্রতিরোধের অপারেশন এবং আত্মরক্ষার অধিকার অনুশীলন করার দায়িত্ব দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কিমের এই সিদ্ধান্ত এই বার্তা দিচ্ছে যে তিনি দক্ষিণের সাথে আলোচনা করতে চান না। ড্রোনের ঘটনাটিকে ইঙ্গিত করে নর্থ কোরিয়া অভ্যন্তরীণ সমর্থন বাড়িয়েছে। এমনভাবে তারা বিষয়টি উপস্থাপন করছে যেন দেশটির বিরুদ্ধে হুমকি বাড়ছে।
কিমের সেনারা সাউথ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত রাস্তা সম্পূর্ণভাবে কেটে দেবে এবং রেলপথেও সংযোগ বন্ধ করে দেবে জানিয়ে নর্থ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ থেকে একটি খবর প্রকাশ পায়। এর পরেই সোমবার সাউথ কোরিয়া দাবি করে, দুই দেশের সীমান্তবর্তী রাস্তাগুলোয় সামরিক কার্যকলাপ বাড়িয়ে দিয়েছে নর্থ কোরিয়া। রাস্তাগুলো উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।
আন্তঃ-কোরিয়ান সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হচ্ছে
ড্রোনের সাহায্যে সীমান্তের ওপার থেকে নর্থ কোরিয়া বিরোধী প্রচারণা লিফলেট পাঠানো হয়েছে অভিযোগ করে গিয়াংগি প্রদেশের ভাইস গভর্নর কিম সুং-জুং একটি মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেন, নর্থ কোরিয়ার দিকে লিফলেট ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ যা একটি সামরিক সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এই ধরনের লিফলেট ছড়ানোর ফলে আমাদের বাসিন্দাদের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। আন্তঃ-কোরিয়ান সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন দুই কোরিয়ার মধ্যে টিট-ফর-ট্যাট পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই প্রথমে চোখ বুলাতে নারাজ। সিউলের নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিম ডং-ইউপ বলেছেন, এই মুহুর্তে কোন পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়। যেহেতু পারস্পরিক অবিশ্বাস রয়েছে, কীভাবে সংকট পরিচালনা করা যায় তা কৌশলগতভাবে বিবেচনা করতে হবে।







