আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের জন্য করের চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ২ হাজার সিসির বেশি ইঞ্জিনক্ষমতার গাড়ির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। অন্যদিকে কম সিসির গাড়ির আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) শুল্ক কাঠামোতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে গাড়ির ইঞ্জিনক্ষমতা ও মোটরের সক্ষমতার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের ২৫ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর দিতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং বিলাসবহুল পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করার অংশ হিসেবে ২ হাজার সিসির বেশি গাড়ির ওপর এআইটি বাড়ানো হতে পারে। তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এতে গাড়ির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তাদের মতে, ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার সিসির গাড়িই মূলত মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের পছন্দ। তাই অগ্রিম কর বাড়ানোর পরিবর্তে এসব গাড়ির আমদানি শুল্ক কমানো হলে সাধারণ ক্রেতারা উপকৃত হবেন।
এদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে মোটরের কিলোওয়াটের পরিবর্তে গাড়ির আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩ হাজার সিসির বেশি ইঞ্জিনক্ষমতার অন্তত ৫ হাজার ২৮৮টি গাড়ি রয়েছে। নতুন বাজেটে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাকের বিদ্যমান শুল্ক সুবিধাও পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশের জ্বালানি ও পরিবহন বাস্তবতা বিবেচনায় বৈদ্যুতিক ও প্রচলিত- উভয় ধরনের যানবাহনের জন্য সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ করনীতি প্রয়োজন। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।







