বিগত ১২ বছর নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তৌসিফ মাহবুব। তার শত শত নাটক দর্শকদের মনে প্রেম জাগিয়েছে, কাঁদিয়েছে, আবার হাসিয়ে। ২০২৬-এ নতুন ভাবনা নিয়ে আগাচ্ছেন তৌসিফ। জানালেন, সিনেমাতে আসবেন।
রবিবার বিকেলে চ্যানেল আই অনলাইনের তৌসিফ বলেন, প্রতিটি বছরই গুরুত্বপূর্ব, তবে এই বছরটা আমার জন্য একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিজেকে প্রমাণ করার বছর। অনেকটা সেতুর মতো। একস্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে যেটা প্রয়োজন। আমিও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে চাই। তবে আমি হুট করে যাবো না। এই বছরে যে কাজগুলো সিনেমাকে মাথায় রেখে করবো।
“এই বছরটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বছর। আমি এ বছর এমন সব কাজ করতে যাচ্ছি, যাতে প্রযোজক, পরিচালকরা নিজেরাই বলেন তৌসিফের আসলে সিনেমাটাই করা উচিত।”
একযুগ অভিনয় করেও তৌসিফ নিজে অভিনেতা হিসেবে ‘প্রমাণিত নন’ বলে জানালেন। তিনি বললেন, আমি প্রমাণিত নই। মানুষ যখন ধরে নেবে আমি পেরে গিয়েছি, আর করার কিছু নেই, আমি সফল; ওইদিনই আসলে সে হেরে যায়। আমি মনে করি, প্রতিদিন ফাইট করা, চ্যালেঞ্জ নেয়া, নতুন করে এনার্জি নিয়ে শুরু করা এটা জীবনের অন্যতম সৌন্দর্য্য। এটা করলে জীবন অনেকদূর এগিয়ে যায়, আমিও তাই চেষ্টা করি।
নাটকে তৌসিফের বাড়তি কদর রয়েছে। অভিনয় দিয়ে শীর্ষ জনপ্রিয়দের কাতারে পৌঁছুতে তাকে কম শ্রম দিতে হয়নি। তবে এই জনপ্রিয়তা প্রতিটি কাজকে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চাপে ফেলে দেয়। এ প্রসঙ্গে তৌসিফ যেমনটা বললেন, প্রতিটি কাজের আগে মনে হয় এটা যদি দর্শক পছন্দ না করে! আসলে আমার অভিজ্ঞতায় মনে হয়, জনপ্রিয়তা অর্জন করাটা অনেক সহজ কিন্তু সেটা ঠিকভাবে রক্ষা করাটা অনেক কঠিন।
তৌসিফের সঙ্গে কথায় কথায় উঠে আসে চারপাশের প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিবাহ বিচ্ছেদ প্রসঙ্গ। বিশেষ করে শোবিজের তারকাদের বিবাহ বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে এলেই যেন এক শ্রেণীর মানুষ যারা নাটক, সিনেমা, সংগীত বিমুখ তারাও সমালোচনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ করে থাকেন। তবে, চারপাশের এতো বিচ্ছেদের মধ্যেও স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস সুষমা (জারা মাহবুব)-এর সঙ্গে তৌসিফ সুখে সংসার করছেন।
তৌসিফ বলেন, যাদের বিচ্ছেদ ঘটছে নিশ্চিয়ই তারা অনেক কঠিন সময় পার করছে। স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার চেয়ে তাকে ডিভোর্স দেয়া ভালো। এখন অনেকে গায়ে হাত তোলে না, কিন্তু মানসিকভাবে টর্চারের শিকার হয়। একে অন্যের প্রতি জুলুম না করে ডিভোর্স দেয়া ভালো।
নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে এই তারকা বলেন,“আলহামদুলিল্লাহ্, আমি এবং আমার স্ত্রী একসঙ্গে সুখে আছি। আমাদের মধ্যেও মান অভিমান হয় কিন্তু এমন কোনো দিন নেই যে তাকে আমি আই লাভ ইউ বলি না। এটা নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত। আমি মনে করি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, পরস্পরকে মনে করিয়ে দেয়া, ভালোবাসি।”







