মানিকগঞ্জে ‘পুতুলের বিয়ে’ নামের একটি নাটকের শুটিং সেটে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ‘অপ্রয়োজনে মারধর’-এর অভিযোগ এনেছেন অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাইভে এসে কান্নাকাটি করে এই অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনা প্রসঙ্গে সামিয়া অথৈ ওই ভিডিওতে বলেন, “একটি দৃশ্যে সহশিল্পী তানজিন তিশাকে আমার চড় মারার দৃশ্য ছিল। গল্পে তিশার চরিত্রটি পাগলের। পরিচালক আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন চড় মারার দৃশ্যটি। আমি একদমই আলতোভাবে তাকে চড় মারি। কিন্তু ঘটনার পরেই তিশা আপুর মতো সিনিয়র শিল্পী আমাকে পাল্টা চড় মেরেছেন। শুধু তা–ই নয়, শুটিংয়ে সবার সমানে একের পর এক মেরেছেন।”
এসময় অভিযোগ করে তিশার বিচার দাবি করেন অথৈ। বলেন বলেন, “সিনের মধ্যেই আমাকে মেরেছেন, মেরে গাল ফুলিয়ে দিয়েছেন। আমার চোখ ফুলে গেছে। আমার জীবনে শুটিংয়ে এমন অভিজ্ঞতা কখনোই হয়নি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে সামিয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করে ‘শুটিং ও চরিত্রের প্রয়োজনে যা করণীয়’ তাই করেছেন বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানালে তিশা।
তিনি বলেন, আমার চরিত্র যা আমি তাই প্লে করছি। এমন চরিত্র করছি যেটা স্পেশাল চাইল্ড (অটিস্টিক)। তার চরিত্রের প্রয়োজনে সে মারতে পারে, কামড় দিতে পারে, পানিতে চুবিয়ে দিতে পারে। ১৫/২০ দিন পর এই নাটক রিলিজ হবে, তখন সবাই বুঝতে পারবেন চরিত্রের জন্য কী করা হয়েছে।
তিশা বলেন, কিন্তু একজন (সামিয়া অথৈ) এমনভাবে লাইভ করেছে যেন আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছি। এখানে এমন কিছু নেই। যে অভিযোগ করেছে সে বুঝতে ভুল করেছে। যতটুকু করেছি চরিত্রের প্রয়োজনে স্ক্রিপ্টে যাছে তাই করেছি।
‘যে অভিযোগ করেছে সে পেশাদার অবস্থান থেকে বেরিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিশা। তার ভাষ্য, কেন সে এমন দৃশ্য ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছে, সেটা সে ভালো করে জানে। সে শুটিং ফাঁসিয়ে চলে গেছে। এখানে আর বলার কিছু নেই। শুটিংয়ে সিনিয়র আর্টিস্ট ডিরেক্টরসহ পুরো টিম আছে। আমার বাবার চরিত্র অভিনেতা সেলিম ভাই (শহিদুজ্জামান সেলিম) করছেন। তার সাথে কথা বললেও বিষয়টি বোঝা যাবে।
সামিয়া অথৈ লাইভে এসে তিশার বিরুদ্ধে ‘আবোলতাবোল কিছু খাওয়ার’ অভিযোগ করেছেন। বলেছেন, তিনি বাজে গন্ধ পেয়েছেন। এই বিষয়ে তিশা বলেন, যে চরিত্র করছি এখানে পরিষ্কার থাকার সুযোগ নেই। গোবরের পাশে বসে ছিলাম, বালুতে আমাকে বেঁধে রাখা হয়েছে; সেখানে একজন আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, এটা দুঃখকজনক। তিনি অভিনেত্রী, তারও তো বোঝা উচিৎ।
অথৈ-এর ‘সরি বলা উচিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিশা। তিনি বলেন, তার (অথৈ) সরি বলা উচিত। এই কাজটির জন্য আমরা অনেক কষ্ট করেছি। রিলিজ হলে আপনারা দেখবেন।







