‘প্রত্যেক জিনিস আমি খুব শক্তভাবে নজরদারি করছি। হয়ত আপনারা দেখছেন ভেতরে ভেতরে অনেক বদল হচ্ছে। এগুলো করার পুরোপুরি চেষ্টা করছি। একটা বড় দুর্নীতি হলে সময় পাবেন, তদন্ত কমিটি করবেন, তদন্ত করবেন, অনেককিছু নিয়ে ধরতে পারবেন। কিন্তু এই যে নারী, যারা ৭-৮ হাজার বা ১০ হাজার টাকা বেতন পান, তাদের এই টাকায় পুরো পরিবার চলে। তাদের থেকে যদি ৫০০ টাকাও কেউ নেয়, এটা অনেক বড় অপরাধ। আমি থাকতে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। এক ভাগও ছাড় হবে না। পরে কোন কোম্পানি টেন্ডারে কাজ পেলে যেন এধরনের দুই নম্বরি করতে না পারে। আপনারাও নজর রাখবেন, এটা আমার অনুরোধ, আমার পক্ষ থেকে। গরীবের যেন কোন সমস্যা না হয়।’ বলছিলেন বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল।
সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তামিম। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা দর্শকদের জন্যও বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে গত শনিবার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ চলাকালীন মিরপুরে গ্যালারিতে যান তামিম। দর্শকদের জন্য বাথরুম পরিষ্কার না থাকায় ক্ষুব্ধ হন। পরে জানতে পারেন হরিলুট হচ্ছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন। এরপর নেমেছেন পদক্ষেপে। শুরুর বক্তব্য সেটি ঘিরেই।
সোমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী দিনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি জানান বিসিবি সভাপতি। তামিম বলেন, ‘খুব অবাক হয়েছি। গ্যালারিতে যখন গেলাম, ফিনল্যান্ডের এক নারী, যিনি সেদিনই সকালে বিমানবন্দরে নেমে সোজা মাঠে খেলা দেখতে এসেছেন। এসে সুন্দর করে বললেন, ভাইয়া যদি ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যেত। শুনলে অবাক হবেন, ২০০৭ সালে স্টেডিয়াম তৈরির পর বাথরুমে কোন সংস্কার কাজ হয়নি।’
গ্যালারি পরিদর্শনের সময় এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী তামিমের কাছে পারিশ্রমিক বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তামিম তখন জানতে পারেন ওই কর্মীরা দৈনিক ৩০০ টাকা করে পাচ্ছেন। পরে পর্যালোচনা করে দেখেন, বিসিবির কেউ একজনের যোগসাজশে ৫০০ টাকার জায়গায় মাত্র ৩০০ টাকা করে দৈনিক পারিশ্রমিক পাচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এমনকি তাদের ওভারটাইমের টাকাও লুট করা হচ্ছে কৌশলে।
বিসিবি থেকে একেকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য দৈনিক দেয়া হয় ৬৫০ টাকা। খরচ ও লাভ বাবদ ১৫০ টাকা ধরে, বাকি ৫০০ টাকা দেয় টেন্ডার নেয়া প্রতিষ্ঠান। সেই ৫০০ টাকা দেয়া হয় বিসিবির একজনকেই। তিনি আবার সেখান থেকে ২০০ টাকা কমিয়ে ৩০০ টাকা করে দেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের।
তামিম বললেন, ‘যা শুনেছি, খুবই শকিং। বিসিবিতে এসব হয় ধারণা ছিল, তবে এতটা হয় ধারণাও ছিল না। সিরিজ চলাকালে বিসিবি তৃতীয় পক্ষ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে পরিষ্কারের সুযোগ-সুবিধা নেয়। নিয়ম তো টেন্ডার পাওয়া কোম্পানি লোক দেবে। তবে টেন্ডার একটা কোম্পানি পাচ্ছে, বিসিবিরই লোকজন ৩০-৪০ জন লোক দিচ্ছে, ওই কোম্পানি টাকাটা নিয়ে বিসিবির লোকদের দিচ্ছে। সেই টাকা নিয়ে তার মতো পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিচ্ছে।’
বললাম, ‘আপনি আপনার খরচ আর লাভ শেষে ৫০০ করে দেন না কেন। বলল ভাইয়া আমি ৫০০ করেই দেই। কাকে দেন? বিসিবির ওই অমুককে দেই। উনি খালাদের ৩০০ করে দেন।’
‘যাদের আয় রোজ ৩০০-৪০০ টাকা, তাদের টাকা থেকেও খেতে হবে? একেবারেই নিন্দনীয়। এখন থেকে টেন্ডার প্রতিষ্ঠানকেই সরাসরি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একাউন্টে টাকা দিতে হবে, সেই প্রমাণ দেখিয়ে বিসিবি থেকে বিল পাশ করিয়ে নিতে হবে। নির্দেশনা না মানা হলে চুক্তি বাতিল হবেই, টেন্ডার নেয়া প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। যাতে আর কখনও বিসিবিতে কাজ না করা যায়।’
‘এই নারীরা প্রতিদিন কষ্ট করে তাদের পরিবার চালান। আমার বেতন ১ মাস পর পেলেও সমস্যা হবে না। ওনাদের বেতন যদি ১ দিনও দেরি হয়, এটা অনেক বড় সমস্যা।’ যোগ করেন তামিম। সংবাদিকদেরও এসব বিষয়ে নজর রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।


