সিলেট থেকে: বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের কাছে হেরে মেজাজ হারিয়ে বসেছিলেন ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তেড়ে যান প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় অ্যালেক্স হেলসের দিকে। ঘটনায় ডিমেরিট পয়েন্টের শাস্তি পেলেন তামিম।
ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকা নিয়ামুর রশিদ রাহুল চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বলেছেন, ‘আচরণবিধি ভাঙায় তামিমকে মৌখিক সতর্ক করা হয়েছে। সঙ্গে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট তার নামের পাশে যোগ হয়েছে। আম্পায়ারদের প্রতিবেদন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তামিম অভিযোগ স্বীকার করে নেয়ায় কোনো শুনানির প্রয়োজন হয়নি।’
মাঠ আম্পায়ার আলি আরমান ও আসিফ ইয়াকুব ম্যাচ শেষে অভিযোগ ম্যাচ রেফারির কাছে জমা দেন। অ্যালেক্স হেলসের দিকে তেড়ে গিয়ে আচরণবিধির ২.৬ অনুচ্ছদের এক নম্বর ধারা ভঙ্গের কারণে তামিমকে ডিমেরিট পয়েন্টের শাস্তি দেয়া হয়েছে। তামিম ছাড়া অন্যকেউ শাস্তি পাননি। নিয়ামুর রশিদ জানিয়েছেন, আর কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি।
তামিম আচরণবিধির ২.৬ ধারায় আপত্তিকর, অশালীন আচরণ করেন। যে কারণে তাকে শাস্তি হিসেবে এক ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়া হয়েছে। যা তার প্রোফাইলের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই অপরাধে কোন ক্রিকেটারকে সর্বনিম্ন শাস্তি হিসেবে তিরস্কার শুনতে হয় এবং সর্বোচ্চ জরিমানা হিসেবে ম্যাচ ফি’র শতকরা ৫০ ভাগ কাটা হয়। সঙ্গে যোগ হয় এক বা দুই ডিমেরিট পয়েন্ট।
বৃহস্পতিবার সিলেটে সোহানের অবিশ্বাস্য ইনিংসের পর জয় উদযাপন করছিল রংপুর রাইডার্স। তখন রংপুর ওপেনার অ্যালেক্স হেলসের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় তামিমকে। বরিশালের একজন টিম ডিরেক্টর তাকে টেনে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
ঘটনার পর হেলস গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘তামিম কী নিয়ে বিরক্ত ছিল, তা আমি নিশ্চিত নই। হুট করেই সে আমার সামনে এসে বলল- যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে সামনে এসে বলো। কিন্তু আমি তো কিছু বলিইনি। এরপর সে আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলা শুরু করে। ২০২১ সালে আমি তিন সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলাম, কারণ তখন বিয়ার পান করেছিলাম। কিন্তু তামিম সেই প্রসঙ্গও টেনে এনে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।’
একটি সূত্র অবশ্য বলছে, ম্যাচ শেষে সৌজন্যতা মূলক হাত মেলাতে গেলে তামিমকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মুখভঙ্গি করেন হেলস। তামিমের সেটা ভালো লাগেনি। তখন তামিম হেলসকে বলেন, ‘এরকম করছ কেন? কিছু বলার থাকলে মুখে বলো। বি আ ম্যান।’
এরপর হেলসও পেছন থেকে কিছু একটা বললে খেপে যান তামিম। তখন তেড়ে যান হেলসের দিকে। তখন তামিমকে টেনে ধরেন রংপুরের টিম ডিরেক্টর শাহনিয়ান তানিম। ঘটনার শেষদিকে সেখানে রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকেও দেখা যায়। যদিও ম্যাচ শেষে সোহান বিষয়টি নিয়ে কিছু জানেন না বলেন। বলেন, ‘এটা আমি খুব কাছ থেকে দেখি নাই। এদিকে আসার পর দেখেছি, মানে শেষপর্যায়ে যখন গেছি। আমি আসলে যাওয়ার পর বুঝতে পারবো, কী নিয়ে হয়েছে। কিন্তু কিছু একটা হয়েছে আমিও এটা দেখেছি।’
বরিশালের ব্যাটিং কোচ নাফিস ইকবালের কাছে বিষয়টি সিরিয়াস কিছু নয়, এমন বলেছেন তামিমের বড় ভাই নাফিস। বলেছেন, ‘ম্যাচ হারলে ইমোশনটা থাকে, সিরিয়াস কোনকিছু না।’







