বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাল ধরতেই বড়সড় পরিবর্তনের আভাস দিলেন নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর দায়িত্ব নিয়ে আজ বুধবার দ্বিতীয় বোর্ড সভায় বসেছিলেন তামিমের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। সেই সভা শেষে দেশের নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের ঘরোয়া লিগের ম্যাচ ফি ও মাসিক বেতন এক লাফে অনেকটা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি। মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি নিয়ে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে তামিম ইকবাল বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে মেয়েদের পারিশ্রমিক এক সময় মাত্র ১ হাজার টাকা ছিল, যা পরে ৫ হাজারে উন্নীত করা হয়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই অঙ্ককে নিতান্তই অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন তিনি। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে নারী ক্রিকেটাররা ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১০ হাজার টাকা, ওয়ানডে ম্যাচের জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং লঙ্গার ভার্সন বা দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচের জন্য ২০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন। আগের তুলনায় এটি একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছে ক্রিকেট মহল।’
‘শুধু ম্যাচ ফি নয়, নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে চুক্তিবদ্ধ নারী ক্রিকেটাররা মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতন পেতেন, যা এখন থেকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা ৬৫ হাজার, ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা ৫০ হাজার এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা করে বেতন পাবেন। ঘরোয়া পর্যায়ে নারী ক্রিকেটের প্রসারে এই বেতন বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বোর্ড মনে করছে।
অন্যদিকে পুরুষ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও লঙ্গার ভার্সন বা দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে গত ৩-৪ বছর ধরে পুরুষ ক্রিকেটারদের বেতন না বাড়ায় ক্ষোভ ছিল সংশ্লিষ্ট মহলে। সেই অচলায়তন ভেঙে তামিম ইকবাল জানান, ‘আগে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৩৫ হাজার, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩০ হাজার এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২৫ হাজার টাকা বেতন ছিল, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত নগণ্য। নতুন কমিটি এই বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করে ক্রিকেটারদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’







