“বাবা আমাদের জীবনে একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাকে সবসময় আমরা স্মরণ করি, তারজন্য কোনো বিশেষ প্রয়োজন হয় না। এখনতো তার জন্য ফিলিংসটা আরো বেশী। বাবা নাই, এটা এখনো মেনে নিতে পারি না।”
কিংবদন্তি নির্মাতা, লেখক ও গীতিকার আমজাদ হোসেনের জন্মদিনে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন তার কন্যা শায়লা শারমিন শুক্লা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) আমজাদ হোসেনের জন্মদিন। এদিন তাকে নিয়ে চ্যানেল আইয়ের বিশেষ ‘তারকা কথন’-এ উপস্থিত ছিলেন আমজাদ হোসেনের দুই ছেলে সোহেল আরমান, সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ও কন্যা শায়লা শারমিন।
বাবাকে নিয়ে শুক্লা এদিন আরো বলেন, “যতো দিন যাচ্ছে ততো যেন বাবাকে আরো গভীরভাবে ফিল করছি। এজন্যই বলছি বিশেষ দিন নয়, বাবাকে প্রতিদিন মিস করি, ফিল করি।”
সোহেল আরমান বলেন, বাবা সবকিছুর উর্ধ্বে এখন। তবে তার সৃষ্টিকর্ম বাংলার কোটি মানুষের কাছে। তার জন্ম, মৃত্যু দিনে তাকে নিয়ে মানুষ নানাভাবে চিন্তা করে। আমরা হয়তো সেটা যে কোনো কারণেই হোক, উপলব্ধি করে উঠতে পারি না। কিন্তু আমার বিশ্বাস বাবাকে কেউ ভুলে যায়নি। তার সৃষ্টিগুলো অমর, বাংলাদেশ যতোদিন থাকবে বাবার কাজগুলো অমোচনীয় থাকবে।
সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বলেন, “আমরা পাঁচ ভাই বোন। এখানে তিনজন ছাড়াও আমাদের আরো দুই ভাই আছেন কল্লোল ও মৃদুল। আমার বাবা বলতেন,‘আর কী চাই জীবনে। চার ছেলে আছে, মৃত্যুর পর তারা আমার খাটিয়া ধরবে, আর মেয়ে কাঁদবে!’”
দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রয়াত হন আমজাদ হোসেন। তার পরিচালনায় জনপ্রিয়তা পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।
১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া নানামাত্রিক কাজের জন্য ১৪ বার জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। একইসাথে বাংলা একাডেমি পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই কিংবদন্তি।







