ক্যারিয়ারের রজতজয়ন্তীতে এসে হঠাৎ এক ঘোষণা দিয়ে সবাইকে অবাক করে দেন সংগীতশিল্পী তাহসান!গেল মাসেই প্রকাশ্যে আসে যে, তিনি আর গান করবেন না এবং ধীরে ধীরে মঞ্চ থেকে সরে যাবেন!
এই ঘোষণা ভেঙে দেয় অসংখ্য ভক্তের হৃদয়। তবে অনেকে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেও, নেটিজেনদের বিরাট একটি অংশ চেয়েছিলেন তিনি যেন আরও কিছুদিন গান করেন, আরও কিছুদিন মঞ্চে থাকেন, শ্রোতাদের মোহিত করে রাখেন।
গত সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে বেশ কয়েকটি কনসার্টে গান করেন তাহসান, যা তিনি নিজের শেষ বিদেশ সফর হিসেবে উল্লেখ করেন। জানান, ধীরে ধীরে সংগীত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন, যদিও ঢাকায় আরও কিছু প্রজেক্ট ও ইভেন্ট তার হাতে রয়েছে বলেও জানান।
কয়েক সপ্তাহ পর ঢাকায় ফিরে আবারও মঞ্চে উঠেন তাহসান। কখনও পিয়ানো হাতে, কখনও মাইক্রোফোনে গান গেয়ে দল নিয়ে মঞ্চ মাতান আগের মতোই।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কয়েকটি গান পরিবেশন করেন তিনি। এতে ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে- এটাই কি তাহসানের শেষ মঞ্চ?
গান শেষে আয়োজিত আলোচনায় সঞ্চালক সরাসরি প্রশ্ন করেন, সংগীত ছাড়ার সিদ্ধান্ত কি চূড়ান্ত? জবাবে তাহসান নিজের ভাবনা খোলাসা করেন।
তিনি বলেন, “আমি জানি না এটা বলার সঠিক জায়গা কি না, কারণ আমি যেটাই বলি, অনেকে তার একটা অংশ কেটে আলাদা করে খবর বানিয়ে ফেলে। তাই সাবধানে বলতে হয়। তবে একটা কথা বলতে চাই। অনেক বছর আগে আমার ভাই বলেছিল, সংগীতশিল্পীদের জীবনকাল খুব ছোট। তখন সে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন আমি এমন ঝুঁকি নিচ্ছি, বিশেষ করে যখন আমি লিভার ব্রাদার্সের চাকরি ছেড়ে প্রথম অ্যালবামে কাজ শুরু করি।”
তিনি আরও বলেন, “ভাই বলেছিল, একজন শিল্পীর পেশাগত জীবন হয়তো সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তার সৃষ্টি—তার ‘আর্ট’—চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”
নিজের দর্শন ব্যাখ্যা করে তাহসান বলেন, “আমি মনে করি, আমি যতদিন মানুষের ভালোবাসার চূড়ায় থাকব, ততদিনই কাজ করব। কারণ অন্য পেশায় যেমন অবসরের নিয়ম আছে, শিল্পীর ক্ষেত্রে তেমনটা নেই। কিন্তু একটা সময় আসে, যখন মানুষ ভুলে যায়। আমি চাই না ভুলে যাওয়ার ক্ষত নিয়ে বাঁচতে, বরং ভালোবাসা নিয়েই বিদায় নিতে চাই।”








