চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
ব্রাউজিং ট্যাগ

মুক্তিযুদ্ধ

সৌভাগ্যের বরপুত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর?

শুরুতেই একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ। কলেজ জীবনে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে আমার শিক্ষক ছিলেন বর্তমান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিক্ষক থাকাকালে তিনি আমাদের অর্থনীতি পড়াতেন। আমরা কলেজে সবাই তাঁর ভক্ত ছিলাম। শুধু ইকবাল নামে এক ফাজিল বন্ধু স্রোতের বাইরে গিয়ে মন্তব্য করত, ‘আলমগীর স্যার হল রাজাকারের বাচ্চা। আর রাজাকারের বাচ্চারা কখনও সাচ্চা হয় না!’ আমরা তখন সবাই মিলে ইকবালকে বয়কট করেছিলাম। একজন স্যারকে এভাবে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলাটাকে আমরা সেদিন ভালোভাবে নিতে পারিনি। কিন্তু নির্মম পরিহাস, পরবর্তী সময়ে তিনি দলীয়…

বিজয়ের মাসে নির্বাচনী ভাবনা

সদ্য প্রয়াত তারামন বিবিসহ পরলোকগত ও জীবিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভ করে বীর বাঙালি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা ২১ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লে. জেনারেল নিয়াজী মুক্তিবাহিনীর নিকট ৯৩ হাজার সৈন্যসহ আত্নসমর্পন করে এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের জয়লাভ সুনিশ্চিত হয়। এই ডিসেম্বরের মাসেই আমাদের পরম কাঙ্খিত বিজয় নিশ্চিত হয়, বাঙালি জাতির জীবনে পরম আরাধ্যের বিষয় মহান স্বাধীনতা প্রাপ্তি। এই…

মুক্তিযুদ্ধ ছিল এক জনযুদ্ধ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গণমানুষের। মুক্তিযুদ্ধ তাই ছিল এক জনযুদ্ধ।  একাত্তরের সাত মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে রেসকোর্স ময়দানে যে লাখো জনতা অংশ নিয়েছিলো, তারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে একাত্তরের নয় মাস। সেই যুদ্ধে দেশের গণমানুষ যেভাবে প্রাণ দিয়েছে তার কোনো তুলনা ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই। নিপীড়িত বাঙালি দেশ মাতাকে মুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো এক জনযুদ্ধে। ট্রেনিং নিয়ে কেউ অংশ নিয়েছে সশস্ত্র সংগ্রামে, কেউ কাজ করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায়। কাঙ্খিত স্বাধীনতার…

সাংস্কৃতিক আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ

বাংলার স্বাধীকার আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা পর্যন্ত রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। একাত্তরে সশস্ত্র সংগ্রামের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন সাংস্কৃতিক সংগ্রামকে ও জাগরণের অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরে ছিনিয়ে এনেছে বিজয়। দেশ ভাগের পর পাকিস্তান সরকার প্রথম আঘাত হানে পূর্ব বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। বাঙালির নিজস্ব ভাষার উপর জোর করে চাপিয়ে দিতে চেয়েছে ঊর্দূ ভাষা। সে সময় নিজেদের জাতি সত্তা রক্ষায় রাজনৈতিক সংগ্রামে পাশাপাশি শুরু হয়  সাংস্কৃতিক আন্দোলন। শুরুতে প্রান্তিক, অগ্রণী,…

৬৯’র গণঅভ্যুত্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধ

আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করার পর থেকেই তাঁর মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে ছাত্রসমাজ। ১১ দফা দাবি তুলে ধরে তারা। ছাত্রদের পক্ষে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে এলে আন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে; মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু, পতন হয় আইয়ুব সরকারের। ১৯৬৮ সালে আগরতলা মামলায় গ্রেপ্তার বঙ্গবন্ধুসহ অন্যদের মুক্তির দাবিতে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল ছাত্র সংগঠনগুলো। পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পরিকল্পনা করছে এমন সংবাদে ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ। রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তিসহ ১১ দফা দাবি নিয়ে ৬৯ সালের…

বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা থেকে মুক্তিযুদ্ধ

শরীফ কমিশনের বিপক্ষে শিক্ষা আন্দোলনের পর থেকেই বাংলার ছাত্র সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ একনায়ক আইয়ুব খানের পতন ঘটিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরো বেশি বদ্ধপরিকর হতে থাকে। ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনের পরও আইয়ুব খান স্বৈরশাসনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় শোষণ চালিয়ে যেতে থাকে। ততোদিনে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য প্রধান নেতা হয়ে উঠছেন শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোর সম্মেলনে ৬ দফা উত্থাপন করেন তিনি। পাকিস্তান সরকার তা প্রত্যাখ্যান করলে সম্মেলন বর্জন করেন শেখ মুজিব। পরে ৬ দফা দাবির পক্ষে জনমত গড়ে…

বায়ান্ন’র চেতনায় ১৯ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ

১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর বেগবান হতে থাকে ভাষা আন্দোলন। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে রক্তের বিনিময়ে ভাষার অধিকারের যে অর্জন, সেই চেতনাকে ধারণ করে ১৯ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের চ্যানেল আইয়ের বিশেষ আয়োজন ‘যেভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ’-এর চতুর্থ পর্বে চেতনার সেই আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। একনায়ক জিন্নাহর মৃত্যুর পরও পাকিস্তান সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতার লোভ, ষড়যন্ত্র ও রক্ষণশীলতায় অতীষ্ঠ হয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রসংগঠনগুলো যখন সাধারণ মানুষকে নিয়ে সংগঠিত হচ্ছে, সেসময় ১৯৫২ সালের ২৭শে জানুয়ারি পল্টন…

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে মুক্তিসংগ্রাম

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ছাত্রসমাজ ‘না’ বলে দেয়ার পর সংগঠিত হতে থাকে রাজনৈতিক শক্তি। প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ যার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম। পাকিস্তান জন্ম নেয়ার পর মুসলিম লীগ সরকার যখন পূর্ব বাংলার মানুষদের সঙ্গে কোটারি, কুশাসন, অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে তখন শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্য নেতারা মিলে সিদ্ধান্ত নেন নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকা রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ, যা পরে হয় আওয়ামী লীগ।…