এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ক্রমশ বদলে যাওয়া প্রকৃতি, আবহাওয়ার বৈরি আচরণ কিংবা হঠাৎ বন্যা আর খরায় চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছে কৃষি খাত। কমছে কৃষিজ পণ্য উৎপাদন। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। এক সময় জলবায়ু পরিবর্তন যাদের কাছে নিছক একটা ‘কৃত্রিম ইস্যু’ ছিলো, তারাও এখন ভুক্তভোগি। পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে গোটা বিশ্বকেই। তাই সংকট এখন প্রত্যক্ষ এবং যার শিকার সবাই। জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট এমন অনেক সংকটের সহজ সমাধান ও সাশ্রয়ী উদ্ভাবনের লক্ষ্যেই ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরামের সৃষ্টি।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে শুরু হওয়া ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরামের অষ্টম আসরের উদ্বোধনী পর্বের পুরোটা জুড়েই চেষ্টা হয় জলবায়ু জনিত এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার। শুরু হওয়া দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশ ও দেশের বাইরের ২০০ জন বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা,গবেষক এবং উন্নয়নকর্মী অংশ নিচ্ছেন।
সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্। এসময় সম্মেলনের উদ্দেশ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি সংকট সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধ পরতে গিয়ে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং এক সময়ের জলবায়ু চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ নাশিদ ভার্চুয়ালি বলেন, এখন প্রয়োজন সহজ, টেকসই এবং স্থানীয় মানুষের জ্ঞান ও বিজ্ঞান নির্ভর সমাধান। স্থানীয় মানুষের কথা ভাবতে হবে, স্থানীয়দের মতো করে। মতাদর্শ নিয়ে নয়, সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈজ্ঞানিকভাবে।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জোট ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম’র এই মহাসচিবের মতে, যাদের সমস্যা,তাদের ছাড়া সংকট মোকাবেলা করা যাবে না।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন দূরের ইস্যু নয় বরং এখনই মানুষ ভূক্তভোগী।
মালদ্বীপের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট মনে করেন, জলবায়ু অর্থায়নে বৈষম্য হয়েছে। শিল্পনির্ভর দেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণায়নে মূল ভূমিকা রাখলেও তার দায় নিচ্ছে না।
‘কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায় জলবায়ু অভিযোজন’শিরোনামে এবারের আয়োজনে ঝুঁকি মোকাবেলায় ক্ষতি কমানো এবং সংকট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে স্থানীয় বিজ্ঞান চর্চার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন উপস্থিত বক্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জন্য সংকট নানামুখি। পাহাড়ের সংকট যেমন উপকূল থেকে আলাদা তেমনি মিল নেই খরা প্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের সঙ্গে বন্যাপ্রবণ এলাকার। সে কারণেই বক্তারা ‘সমন্বিত উদ্যোগ’ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
সম্মেলনের প্রথম দিনে ব্র্যাক ও ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের ক্লাইমেট হাব-এর ঊর্দ্ধতন পরিচালক ক্রিস্টিনা চ্যানের সঞ্চালনায় ‘ট্রান্সফরমেশনাল অ্যাডাপটেশন ইন এগ্রিকালচার’ এবং ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল কেনিয়ার জলবায়ু কর্মসূচির সিনিয়র ম্যানেজার ডিজেফু গ্যাটাচো’র সঞ্চালনায় ‘নেভিগেটিং আনসার্টেনটি থ্রু ক্লাইমেট ইনফরমেশন সার্ভিসেস’, ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার কুলদীপ বন্ধু আরিয়ালের সঞ্চালনায় ‘ফার্মিং ফর দ্য ফিউচার: প্র্যাকটিক্যাল ইনোভেশনস ফর স্মলহোল্ডার ফার্মারস’, ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের ক্লাইমেট হাব-এর প্রধান অ্যাশলি টুম্বসের সঞ্চালনায় ‘ইউজ কেইসেস ফর গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ারুল আবেদীনের সঞ্চালনায় ‘নেচার বেইজড সল্যুশন্স’ নামের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এসব আলোচনায় পুনরুৎপাদনশীল কৃষি, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান, জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, আর্থিক অন্তর্ভূক্তি ও বাজারজাতকরণ কৌশল উদ্ভাবনের বিষয় আলোচনা হয়।







