ছন্দে ছন্দে, র্যাপ আদলে সমাজের মানুষের মনের কথাগুলো বলে থাকেন তবীব মাহমুদ। তার গান মানেই যেন আগুনের ফুলকি! বারবার নিজেকে প্রমাণ করা তবীব ২০১৯ সালে কামরাঙ্গির চরের রসুলপুর গলি থেকে ‘ঢাকাইয়া গাল্লি বয় রানা’কে হাজির করে প্রথম সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন।
এরপর সেই রানার ভাগ্য বদলে যায়। তবীব জানান, রানা এখন ক্লাস ফাইভে পড়ছে। সে খুব ভালো আছে। সম্প্রতি তবীব তার কণ্ঠ ও গানের কথায় আবার ঝড় তুলেছেন। যে গানে দুর্দান্তভাবে হাজির হয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন ঢাকার চলচ্চিত্রের শীর্ষ তারকা শাকিব খান।
তপু খানের পরিচালনায় ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘লিডার আমিই বাংলাদেশ’ ছবির ‘কথা আছে’ শিরোনামে এ গানটি বর্তমানে ফেসবুকে পপুলার লিস্টে আছে, ইউটিউবে ট্রেন্ডিং ও টিকটকে ভাইরাল হয়েছে। সর্বমহলে প্রশংসা কুড়ানো এ গান প্রসঙ্গে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা হয় তবীবের।
তরুণ এই শিল্পী বলেন, আমি খুব খুশি যে মানুষ গানটি অল্পসময়ে গ্রহণ করেছেন। শিল্পের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে গান কবিতা। এগুলো তখনই সার্থকতা পায় যখন একবার শোনার পর বারবার আগ্রহ নিয়ে শোনে। আমি মনে করি এটাই আসল শিল্প।
‘শিল্পের মাধ্যমে মানুষের কাছে যদি সুন্দর বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায় তাহলে আমি মনে করে এটা বিনোদনের মধ্যেও সর্বোত্তম বিনোদন। তাছাড়া বিনোদনের মাধ্যমে জাগরণ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ যদি শিল্পের মধ্যে রাখা যায় তাহলে আমি মনে করি সেটা বেস্ট। ঠিক এসব নিয়েই ‘কথা আছে’ গান। প্রকাশের পর দর্শক গ্রহণ করেছেন। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আগামী আরও ভালো কাজের জন্য অনুপ্রাণিত।’
‘কথা আছে’ গানের সংগীত পরিচালক এলএমজি বিটস’র শুভ্র রাহা। তবীব জানান, ‘কথা আছে’ গানটি তৈরি করতে বাড়তি মনোযোগ দিতে হয়নি।
তিনি বলেন, প্রতিটি কাজ যত্ন নিয়ে করি। যে অবস্থার গান হোক সেরাটা দিতে চাই। ‘লিডার’ সিনেমার গল্প শুনে কী কী বিষয় তুলে আনা যায় নোট করি। সেগুলোর উপর ভিত্তি করে গানটি লিখেছি। লেখার সময় আমি মজা পেয়েছি। গাওয়ার সময়ও আনন্দ পেয়েছি। পুরো সময়টা এনজয় করেছি।
দেশের দুর্নীতি থেকে একাধিক টালমাটাল ইস্যু উঠে এসেছে তবীবের ‘কথা আছে’ গানে। এই গানটিতে লাখ লাখ মানুষের না বলা কথা ও প্রতিবাদ উঠে এসেছে, যেখানে পারফর্ম করেছেন সুপারস্টার শাকিব খান। সবমিলিয়ে কেমন লেগেছে জানতে চাইলে তবীব বলেন, শাকিব ভাইয়ের বড় ভক্ত শ্রেণী আছে। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। মানুষ তাকে ভালোবাসে। তার সঙ্গে এই কাজটি একটা অনুভূতির ব্যাপার। সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তবীব বলেন, আমি আমার স্বপ্নকে এক কথায় প্রকাশ করতে পারবো না। বিভিন্নভাবে আমার অনেক স্বপ্ন।
তবীব বলেন, সেইসব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। এখন আমার ভিতরে ভিতরে কষ্ট দিচ্ছে পথশিশুদের জন্য তেমন কিছু করতে পারি নাই। অনেক বড় বড় কথা বলেছি। এগুলা আমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে। দোয়া চাই, যেন কয়েক’শ কোটি টাকা কামাই করতে পারি। এই টাকা দিয়ে পথশিশুদের ভবিষ্যৎ বদলে দেব। আমি বিশ্বাস করি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে গেলে একটা পথশিশু থাকলে হবে না। একটা পথশিশু যদি থাকে তাহলে সেটা স্মার্ট বাংলাদেশ হবে না।








