বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ভাইরাসের আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনও কম রয়েছে।
আজ (৬ ফেব্রুয়ারি) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশে এক নারী রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তার গলা ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হলে পরদিন পরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। পরে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।
ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালার (আইএইচআর) জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট রাজশাহী বিভাগে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগীর তথ্য সংস্থাটিকে জানায়। মৃত নারীটির বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তিনি নওগাঁ জেলার বাসিন্দা।
সংস্থাটি জানায়, ওই রোগীর কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে তিনি সম্প্রতি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা নিপাহ সংক্রমণের একটি পরিচিত ঝুঁকি। রোগীর সংস্পর্শে আসা আরও ৩৫ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
এই ঘোষণার এক সপ্তাহ আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগী শনাক্ত হয়। এর ফলে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং কিছু দেশে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রয়োজন নেই।
২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪৮টি নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক রোগী কাঁচা খেজুরের রস পান করার ইতিহাস জানিয়েছিলেন। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে নিপাহের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, যা খেজুরের রস সংগ্রহ ও পান করার সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।







