ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা দারুণভাবেই কাজে লাগালেন কুইন্টন ডি কক। ২০২২ মৌসুমে বার্বাডোজ রয়্যালসের হয়ে খেলেছিলেন সাতটি ম্যাচ। এর মধ্যে তিনবার সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তার মাঠে নামার সুযোগ হয়েছিল। উইকেটের আচরণের পরিবর্তন সম্পর্কে জ্ঞান ও বাতাসের গতির চমৎকার ব্যবহারে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে উইকেটরক্ষক এ ব্যাটার করেন বাজিমাত।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেন্ট লুসিয়ায় দিবারাত্রির ম্যাচে খেলেছিল ক্যারিবীয়রা। সেদিনের হাই স্কোরিং ম্যাচে মতো কন্ডিশন দিনের ম্যাচে থাকবে না, ডি কক সেটি ভালভাবেই জানতেন। ম্যাচের সময় যতো গড়াবে উইকেট ততো ধীরগতির হয়ে যাবে বুঝেই পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তুলতে তিনি মরিয়া ছিলেন।
প্রোটিয়াদের উইকেটরক্ষক ব্যাটার ৩৮ বলে ৪টি চার ও ৪ ছক্কায় ৬৫ রানের ইনিংস খেলে হন ম্যাচসেরা। পাওয়ার প্লেতে বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে ২০ বলে ৪৯ রান তুলেছিলেন। জফরা আর্চারের বলে দুইবার এবং স্যাম কারেনের বলে একটি ছক্কাও হাঁকান। তার বিশ্বাস, দ্রুতগতির সূচনা ম্যাচের ফলে একটি বিশাল প্রভাব ফেলেছিল।
‘আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনেক দিন টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট খেলেছি। সাধারণত রান করার জন্য পাওয়ার প্লে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। জানি না দলের বাকিরা জানতো কিনা, কিন্তু আমার একটা ভালো ধারণা ছিল। এখানে ক্যারিবিয়ান লিগে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছি, উইকেট দেখতে সুন্দর। রাতে এখানে সবচেয়ে বেশি খেলা হয়। দিনের ম্যাচগুলোতে সাধারণত ১৬০-১৭০ স্কোরে জেতা যায়।’
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের খেলায় ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সুপার এইটে একই লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে ডি কক উপলব্ধি করেছিলেন এতো রান দিনের ম্যাচে হবে না। তার ভাষ্য, ‘পাওয়ার প্লেতে রান করার সহজ সময়। বল পুরানো হয়ে গেলে এবং উইকেটের অবস্থার অবনতি হলে রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।’
আর্চারের পরপর দুই বলে ছক্কা মারার ক্ষেত্রে ডি কক মাঠে আড়াআড়িভাবে বয়ে যাওয়া বাতাসের উপযুক্ত ব্যবহারে সক্ষম হন। বাঁহাতি ব্যাটার এ প্রসঙ্গে সাফ বলেন,
‘আপনাকে বাতাস যতটা সম্ভব ব্যবহার করতে হবে। এটির সাথে লড়াই করবেন না, শুধু চেষ্টা করুন এবং এটির ব্যবহার করুন।’
শুক্রবারের ম্যাচে ইংল্যান্ডের একাদশের কেউই সেন্ট লুসিয়াতে সিপিএল খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন না। যদিও তাদের ড্রেসিংরুমে সহকারী কোচ হিসেবে রয়েছেন কাইরন পোলার্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বাধিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলা সাবেক এ ক্রিকেটারের ভেন্যুটি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। সেই ফায়দা অবশ্য ইংলিশরা নিতে পারেনি।








