রোমাঞ্চকর লো-স্কোরিং ম্যাচের পর সুপার ওভারের নাটকীয়তা। স্নায়ুর চাপে ঠাঁসা জমজমাট লড়াইয়ে রুদ্ধশ্বাস জয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শুভ সূচনা পেল নামিবিয়া।
ব্রিজটাউনে সোমবার টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওমান ১৯.৪ ওভারে মাত্র ১০৯ রানে অলআউট হয়। জবাবে নামিবিয়া ৬ উইকেটে ১০৯ রানে থামলে ম্যাচ সুপার ওভারে গড়ায়।
সুপার ওভারে আগে ব্যাটিংয়ে নামে নামিবিয়া। বল হাতে নেন বিলাল খান। প্রথম বলে ডেভিড ওয়াইজ চার মারেন। দ্বিতীয় বলটি ফুলটস পেয়ে হাঁকান ছক্কা। পরের বলে ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়ে নেন ২ রান। ওয়াইজের ব্যাটে চতুর্থ বলে আসে এক রান। অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস পঞ্চম ও শেষ বলে বাউন্ডারি মারলে সুপার ওভারে নামিবিয়া তোলে বিনা উইকেটে ২১ রান।
ব্যাটিং শেষের পর সুপার ওভারে বোলিংয়ে আসেন ওয়াইজ। ওমানের হয়ে নাসিম খুশি ও জিশান মাকসুদ বাইশ গজে নামেন। প্রথম বলে আসে ২ রান। দ্বিতীয় বলটি ছিল ইয়র্কার, আসেনি কোনো রান। পরের বলটি আবারো ইয়র্কারে নাসিম বোল্ড হন। ক্রিজে আসেন অধিনায়ক আকিব ইলিয়াস। ম্যাচ কার্যত তখনই ওমানের হাতছাড়া হয়। চতুর্থ বলে আসে ১ রান। জিশান পঞ্চম বলে নেন ১ রান। শেষ বলে আকিব ছক্কা মারলে ১০ রানে থামে। সুপার ওভারে ১১ রানের জয় পায় নামিবিয়া।
সহজ ১১০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শূন্য রানে নামিবিয়ার প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। বিলাল খানের করা প্রথম ওভারে বোল্ড হন মাইকেল ফন লিনজেন।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটের বেশি না হারালেও নামিবিয়া ৩২ রানের বেশি নিতে পারেনি। ওমানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের গতি ছিল মন্থর।
মেহরান খানের করা অষ্টম ওভারে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ১৭ রানে জীবন পান নিকো ডেভিন। যদিও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩১ বলে ২৪ রানে আকিব ইলিয়াসের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ নাদিনের হাতে ধরা পড়েন।
অল্প পুঁজি নিয়েও ওমানের বোলাররা লড়াকু মানসিকতা দেখায়। ১০ ওভারে নামিবিয়া ২ উইকেটে ৪৭ রান তুলতে পারে।
আকিব ইলিয়াস ১১তম ওভারে নিজের বলে ৩ রানে থাকা এরাসমাসের ক্যাচ ফেলে দেন। ত্রয়োদশ ওভারে জীবন পান ২৫ রানে থাকা ইয়ান ফ্রেইলিংক। স্পিনার আয়ান খানের বলে কাইল সহজ ক্যাচ ছাড়েন।
অধিনায়ক এরাসমাস ১৩ রানে জিশানের হাতে ধরা পড়ে মাঠ ছাড়েন। নামিবিয়ার জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ৩২ বলে ৩৬ রান।
জেজে স্মিট ব্যক্তিগত ৮ রানে মেহরানের বলে আয়ানের হাতে ধরা পড়েন। তাতে খেলা শেষের আগে খানিকটা জমে ওঠে।
নামিবিয়ার জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে দরকার পড়ে ১৪ রান, হাতে ৬ উইকেট। বিলালের ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে আফ্রিকা অঞ্চলের দলটিকে স্বস্তি এনে দেন ওয়াইজ।
শেষ ওভারে নামিবিয়ার দরকার ছিল ৫ রান। এ সময় আক্রমণে আসেন মেহরান। প্রথম বলে বোল্ড করেন ৪৮ বলে ৬ চারে ৪৫ রান করা ফ্রেইলিংককে। ম্যাচে ছড়ায় উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ। দ্বিতীয় বলে আসেনি কোনো রান।
ওভারের তৃতীয় বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন রানের খাতা না খোলা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জেন গ্রিন। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ক্রিজে নামা মালান ক্রুগের চতুর্থ বলে ১ রান নেন। সমীকরণ দাঁড়ায় ২ বলে ৪ রান।
মেহরানের পঞ্চম বলে ওয়াইজ দৌড়ে ২ রান নেন। শেষ বলে নামিবিয়ার জয়ে দরকার পড়ে ২ রান। শেষ বলটি ওমানের উইকেটরক্ষক ধরতে না পারায় দুই ব্যাটার দৌড় শুরু করেন। উইকেটরক্ষক নাসিম খুশি সহজ রান আউটের সুযোগ নষ্ট করায় ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায়।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সুপার ওভারের নজির। ২০১২ আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ সুপার ওভারে গড়িয়েছিল।
এর আগে ম্যাচের শুরুতে নামিবিয়ার বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ওমান। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন ৬ ব্যাটার। নিয়মিত উইকেট হারিয়ে বোর্ডে জমাতে পারেনি বড় সংগ্রহ। প্রতিপক্ষকে জয়ের জন্য দিতে পেরেছে মাত্র ১১০ রানের লক্ষ্য।
ব্রিজটাউনে সোমবার টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওমান ১৯.৪ ওভারে মাত্র ১০৯ রানে অলআউট হয়। ইনিংসের শুরুতে ৩ উইকেট হারিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি চাপে পড়ে। টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠান বাঁহাতি পেসার রুবেন ট্রাম্পেলমান।
ম্যাচের প্রথম বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন কাশ্যপ প্রজাপতি। পরের বলে অধিনায়ক আকিব ইলিয়াস এলবিডব্লিউয়ের শিকার হলে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন ট্রাম্পেলমান। পরে নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাসের তালুবন্দি হন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নাসিম খুশি।
সপ্তম ওভারে বের্নার্ড স্কোল্টজের বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন ২০ বলে ৪টি চারে ২২ রান করা জিশান মাকসুদ। মাত্র ৩৭ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে বিপদে পড়ে ওমান।
ধীরগতির ব্যাটিংয়ে পঞ্চম উইকেটে খালিদ কাইল ও আয়ান খান ৩১ রান যোগ করেন। আয়ান ব্যক্তিগত ১৫ রানে এরাসমাসের শিকার হলে জুটি ভাঙে। পরে এরাসমাস তুলে নেন মোহাম্মদ নাদিমের উইকেট।
একপ্রান্ত ধরে রাখা কাইল ৩৯ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ৩৪ রানের ইনিংস খেলে ওয়াইজের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন। একই ওভারে তিনি মেহরান খানকেও লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন।
১৯তম ওভারে আক্রমণে ফেরা ট্রাম্পেলমান তুলে নেন নিজের চতুর্থ উইকেট। কলিমউল্লাহ এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন। বোর্ডে একশো রান তোলার আগেই ওমান ৯ উইকেট হারায়।
ইনিংসের শেষ ওভারে শাকিল ৯ বলে ২ চারে ১১ রান করে আউট হলে ১০৯ রানে থামে ওমানের ইনিংস।
নামিবিয়ার পক্ষে ৪ ওভারে ২১ রানে ৪ উইকেট দখল করেন ট্রাম্পেলমান। আরেক পেসার ওয়াইজ ৩.৪ ওভারে ২৮ রান খরচায় পান ৩ উইকেট।







