টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালের শেষ ওভারে ডেভিড মিলারের ক্যাচ লুফে নিয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদব। লং-অফে উড়িয়ে মারা বলে সীমানার একেবারে কাছাকাছিতে ক্যাচ নিয়েছিলেন। যা নিয়ে চলছে আলোচনার ঝড়। তৃতীয় আম্পায়ার রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত দেন। এসব ক্যাচের ক্ষেত্রে সামনের অ্যাঙ্গেল থেকেও রিপ্লে দেখা হয়, সেদিন তা করা হয়নি।
পরিষ্কার ক্যাচই ছিল? সূর্যকুমারের পা বিজ্ঞাপনের স্কার্টিংয়ে লেগেছিল? চারপাশ থেকে এসব প্রশ্ন উঠতে থাকার মাঝেই ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে সূর্যকুমার দিয়েছেন জবাব।
‘যখন বলটি উপরে এবং মাঠের ভেতরে ঠেলে দিয়েছিলাম এবং ক্যাচটি নিয়েছিলাম, জানতাম দড়ি স্পর্শ করিনি। একমাত্র বিষয়ে সতর্ক ছিলাম যখন বলটিকে ভেতরে ঠেলে দিলাম, তখন যেন আমার পা দড়িতে স্পর্শ না করে। জানতাম এটা আসলেই ক্যাচ ছিল। আড়ালে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। যদি বলটি ছক্কায় চলে যেত, সমীকরণ হতো ৫ বলে ১০ রান। আমরা হয়তো জিততে পারতাম, কিন্তু ব্যবধান আরও কাছাকাছি হতো।’
‘রোহিত ভাই সাধারণত কখনও লং-অনে দাঁড়ান না। কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি সেখানে ছিলেন। যখন বল আসছিল, এক সেকেন্ডের জন্য তার দিকে এবং উনি আমার দিকে তাকালেন। দৌড়ে গিয়েছিলাম এবং আমার লক্ষ্য ছিল বলটি ধরা। তিনি কাছে থাকলে তার দিকে বল ছুঁড়ে দিতাম। কিন্তু এই চার থেকে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে উনি আশেপাশে ছিলেন না।’
মিলারের আউটের পর জয়ের সমীকরণ কঠিন হয়ে যায় প্রোটিয়াদের। মহাগুরুত্বপূর্ণ সেই ক্যাচের সময় সূর্যের মনে হয়েছিল বলের সঙ্গে ভারতের কাছ থেকে ট্রফিটাও যেন উড়ে যাচ্ছে সীমানার বাইরে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার উচ্ছ্বাসের সাথে সেই মুহূর্তটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, সেটিও জানালেন।
‘এই ৪-৫ সেকেন্ডে, যা কিছু ঘটেছে, ব্যাখ্যা করতে পারব না। এজন্য বিপুল পরিমাণ প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। লোকেরা কল করছে, মেসেজ করছে। আমার ফোনে এক হাজারেরও বেশি অপঠিত হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা রয়েছে। ক্যাচটি পুরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে রয়েছে। সেই ৫ সেকেন্ড খেলার মাঝে থাকায় ধন্য।’
ফিটনেস নিয়ে কাজ না করলে ক্যাচ নেয়ার ক্ষেত্রে এমন ভারসাম্য এবং তৎপর হওয়া সম্ভব হতো না, স্বীকার করছেন সূর্যকুমার। ২০২৩-এর নভেম্বর থেকে এবছরের মার্চ পর্যন্ত চার মাস মাঠের বাইরে কাটিয়েছেন। স্পোর্টস হার্নিয়া এবং গোড়ালির আঘাত থেকে সেরে উঠেছেন। এ সময়কালে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার অংশ হিসেবে চিকন গড়নে থাকার জন্য পুষ্টিবিদের সাথে কাজ করেছেন।
‘আমার মনে আছে, গত আগস্টে প্রায় ৯৩ কেজি ছিলাম। সম্ভবত খুব বেশি স্থানীয় খাবার খাচ্ছিলাম। আহত হয়েছিলাম এবং তারপর একটি হার্নিয়া অপারেশন হয়েছিল। ১ জানুয়ারি থেকে ১ এপ্রিল, এনসিএ (বিসিসিআইয়ের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি) গিয়েছিলাম। এমনকি ছুটির দিনেও বাড়িতে যেতাম না। কারণ জানতাম সোমবার সকালে আমার সেশন হবে। আমার সেশন নষ্ট করতে চাইনি।’
‘আমার শেফের তৈরি সঠিক খাবার খেয়েছি। রাত ১০টায় ঘুমাতাম এবং খুব সকালে উঠতাম। এমনকি এখনও, শেফ এবং পুষ্টিবিদদের সহায়তায় আগামী সপ্তাহের জন্য আমার খাবার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, প্রতিদিন কতটা প্রোটিন এবং চর্বি খাবো। তার জন্য আমাদের একটি দল আছে, তারা আমাকে সহায়তা করে।’








