ঈদের সকালে শুরুতে অল্প রানে অলআউট হয়ে চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশ শেষঅবধি হতাশ করেনি। নেপালের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় তুলে নিয়েছে টিম টাইগার্স। তানজিম হাসান ও মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয় পেয়েছে। ২১ রানের জয়ে সুপার এইটের টিকিট কেটেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
সেন্ট ভিনসেন্টে সোমবার ভোরে টস হেরে ব্যাটে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি শান্তর দলের। ১৯.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১০৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ১৯.২ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ৮৫ রানে থামে নেপাল।
জয়ের জন্য ১০৭ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নেপালও। বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই ২ উইকেট তুলে নেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ৪ রান করা কুশল ভুর্টেলের উইকেট তুলে নেয়ার এক বল বাদে শূন্য রানে ফেরান অনিল কুমার সাহকে।
নেপাল চাপে পড়লে হাল ধরার চেষ্টা করেন আসিফ শেখ। তবে তানজিদ হাসান তৃতীয় ওভারে নেপালের আরও একটি উইকেট তুলে নেন। ১ রানে ফেরান অধিনায়ক রোহিতকে। পরের ওভারে ১৭ রান করা আসিফের উইকেট নেন মোস্তাফিজ। সন্দীপ জোরাকে ১ রানে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন ডানহাতি পেসার তানজিদ হাসান। শেষদিকে মাল্লা ও সন্দীপ জুটি করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। সর্বোচ্চ ২৭ রান করে আউট হন মাল্লা ও দীপেন্দ্র ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান।
বাংলাদেশের হয়ে টানা ৪ ওভার বল করে ২ মেডেনসহ ৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন ২১ বর্ষী তানজিম হাসান। বিশ্বকাপে পুরো ৪ ওভার করা বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এটি সবচেয়ে কম রান খরচের রেকর্ড। মোস্তাফিজ নেন ৩ উইকেট।
এর আগে ব্যাটে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সোমপাল কামির বলে ফিরতি ক্যাচে শূন্য রানে আউট হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ওই ওভারে আরও একটি উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল নেপাল। লিটন দাসকে এলবিডব্লিউ দেয়া হলে রিভিউ নিয়ে বাঁচেন।
লিটন রিভিউ নিয়ে বাঁচলেও পরের ওভারে আউট হন শান্ত। দীপেন্দ্র সিং আইরির বলে ৪ রান করে বোল্ড আউট হয়ে ফিরে যান। দলীয় ২১ রানের মাথায় সোমপাল তুলে নেন লিটন দাসের মূল্যবান উইকেট। ১২ বলে ১০ রান করে সাজঘরের পথ ধরে লিটন। খানিক পর ৯ বলে ৭ রান করে ফিরে যান তাওহীদ হৃদয়।
৩০ রানে টপাটপ উইকেট হারিয়ে যখন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ জুটিতে চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা, তখন আরও একটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এবার রানআউট হয়ে ফেরেন বিশ্বকাপে ছন্দে থাকা অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ। ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি।
ঈদের সকালে হতাশার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে ফিরে যান সাকিবও। অধিনায়ক রোহিত পাউডেলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। ২২ বলে ১৭ রান আসে দেশসেরা অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে। ৬১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা তখন শান্ত বাহিনী।
তানজিম হাসান সাকিবের (৩), জাকের আলী অনিক (১২), রিশাদ হোসেন (১৩) রানে আউট হলে শেষদিকে তাসকিন ও মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যাটে ভর করে কোনরকমে একশ পার করে বাংলাদেশ।
নেপালের হয়ে রোহিত, সোমপাল, দীপেন্দ্র সিং আইরি ও সন্দীপ লামিচানে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।







