রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ২ উইকেটে হারিয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিযানের শুরুটা হয়েছে স্বস্তিদায়ক। সহজ ম্যাচটা কঠিনভাবে জয়ে ব্যাটারদের বাজে ব্যাটিংকে কারণ হিসেবে দাঁড় করানোই যায়। টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্বীকার করেন, এমন উত্তেজনাপূর্ণ ও চাপে ভরা ম্যাচে তিনি আগে কখনো খেলেননি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘খেলা শুরুর আগে আমার কাছে তো তাই লেগেছে। এমনকি খেলার আগ থেকের এটা আমরা সবাই জানতাম। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে এমন ম্যাচ আমি এর আগে খেলিনি। তবে আল্লাহর অশেষ রহমত যে, খেলাটায় দিন শেষে জিততে পেরেছি।’
আগে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানদের সূচনাটা ভালোই ছিল। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে লাল-সবুজের দলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরতে থাকে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ইনিংস ৯ উইকেটে ১২৪ রানেই থেমে যায়।
প্রতিপক্ষকে নিয়ে শান্তর ভাষ্য, ‘আমি মনে করি তারা ব্যাটিংয়ে শুরুটা খুবই ভালো করেছিল। তবে আমরা শক্তিশালী হয়েই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রথম ইনিংস শেষের পর তারা সত্যি দারুণ বোলিং করেছে। তারা সবদিক থেকে নিজেদের মেলে ধরেছে। ফিল্ডাররা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। তারা অনেক কম রান করে ফেলেছে।’
ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও সার্বিক পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল না। বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজই হেরে বসে টিম টাইগার্স। তাতে দলের সামর্থ্যের জায়গা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে থাকে। লঙ্কানদের বিপক্ষে জয়ের গুরুত্ব শান্ত বিশেষভাবেই উপলব্ধি করছেন।
‘আমরা সবাই জানতাম এই ম্যাচটা আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুরুটা বোলিংয়ে আমরা ভালো পাইনি। তারপর যেভাবে সবাই যেভাবে শান্ত ছিল, মাঝের ওভারগুলোতে বিশেষত বোলাররা এবং ফিল্ডাররা যেভাবে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে, ওইখানে অনেক ভালোভাবে সবাই নিজেদের মেলে ধরেছিল।’
‘ব্যাটিংটা ভালো হয়নি আমরা সবাই জানি। এ ধরনের উইকেটে বা এই ধরনের চাপের ম্যাচে এরকম হবে। কারণ প্রতিপক্ষের জন্যেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। ওরাও অনেক চেষ্টা করেছে। শেষে আমরা দুইটা পয়েন্ট পেয়েছি, এ জন্য ভালো লাগছে।’
টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে বাজে সময় পার করা বাংলাদেশের গ্রুপপর্ব পেরিয়ে সুপার এইটে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী মানুষের সংখ্যা অনেক কমই ছিল। শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর শঙ্কার মেঘ খানিকটা সরানো গেছে। তাই সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে পরের খেলায় ইতিবাচক ফলের প্রত্যাশায় টাইগার অধিনায়ক।
‘পরের তিনটা ম্যাচও গুরুত্বপূর্ণ। সাউথ আফ্রিকার সাথে ম্যাচটায় নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। ভালো ক্রিকেট খেলা ছাড়া উপায় নাই। বিশেষত ব্যাটসম্যানরা যদি সবাই অবদান রাখতে পারি, তাহলে পরের ম্যাচেও ভালো কিছু হবে।’
২০০৭ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বড় দলকে টাইগাররা হারিয়েছিল। নবম আসরে এসে আবারো কোনো বড় দলের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসের পারদটা উপরে আছে বলেই শান্ত জানান।
‘অবশ্যই এই ধরনের ম্যাচ জিতলে তো সবাই আত্মবিশ্বাসী থাকে। যেহেতু এই ম্যাচটা আমরা জিততে পেরেছি, সবার বাড়তি আত্মবিশ্বাস তো থাকবেই। এই আত্মবিশ্বাসটা নিয়ে যদি আমরা দ্বিতীয় ম্যাচে মিয়ে যেতে পারি, অবশ্যই এটা কাজে দেবে। আশা করবো, দ্বিতীয় ম্যাচটাতেঁও ভালো কিছুই হবে।’








