জমজমাট এক ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরের। উদ্বোধনী ম্যাচে একঝাঁক রেকর্ড আর চার-ছক্কার পসরা মেলে কানাডাকে হারিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। অ্যারন জোন্স ও অ্যান্দ্রিয়েস গাউস তাণ্ডবে ১৪ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দলটি।
নিউইয়র্কের ডালাসে রোববার ভোরে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ১৯৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় কানাডা। যা ছিল প্রতিযোগিতাটিতে কোনো আইসিসি সহযোগী সদস্য দেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। তবে কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে কানাডাকে উড়িয়ে রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রানতাড়ায় করেছে ১৯৭।
সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে আগে সর্বোচ্চ রানতাড়ার রেকর্ড ছিল ১৬৯। আর বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে আগের সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিল নেদারল্যান্ডসের। ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে, আয়ারল্যান্ডের দেয়া ১৯০ রানের বিপরীতে ১৯৩ করেছিল ডাচবাহিনী। যেটি নবম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ভেঙে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সহ–অধিনায়ক অ্যারন জোন্স ও অ্যান্দ্রিয়েস গাউস তৃতীয় উইকেট জুটিতে তুলেছেন ১৩১ রান। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তৃতীয় উইকেট জুটিতে এর বেশি রান এসেছে আর মাত্র একবার। ইংল্যান্ডের ইয়ন মরগান ও অ্যালেক্স হেলস ১৫২ রানের জুটি গড়েছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ২০১৪ বিশ্বকাপে। এরপর অবস্থান জোন্স-গাউস জুটির। তবে টি-টুয়েন্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের এটাই সবচেয়ে বড় রানের জুটি। আগে ১১০ রানের জুটি ছিল তাদের এস মদানি ও গজানন্দ সিংয়ের।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েছেন অ্যারন জোন্স। ২২ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন। শেষপর্যন্ত জোন্স ৪০ বলে ১০ ছক্কা ও ৪ চারে ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন। এই রান করার পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন ভারতের যুবরাজ সিং ও সাউথ আফ্রিকার রাইলি রুশোকে।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের দখলে। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১১ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ১০ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডটিও এতদিন তার দখলে ছিল। সেখানে যুক্ত হলেন জোন্স। সাউথ আফ্রিকার রুশো ৮ ছক্কা নিয়ে রয়েছেন চতুর্থ স্থানে ও ভারতের যুবরাজ সিং ৭ ছক্কা নিয়ে পঞ্চম স্থানে।
২০০৭ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওক ওভারে ৩৬ রান খরচ করেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। এই ম্যাচে কানাডার জেরেমি গর্ডন এক ওভারে খরচ করেছেন ৩৩ রান। যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় শীর্ষ খরুচে ওভার হয়ে থাকল।







