এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে চমকের ইতিহাস দীর্ঘই হচ্ছে। দারুণ খেলে প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরিয়ে আসা আয়ারল্যান্ড সুপার টুয়েলভেও করছে বাজিমাত। হট-ফেভারিট ইংল্যান্ডকে বৃষ্টি আইনে ৫ রানে হারিয়ে রোমাঞ্চের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে অ্যান্ডি ব্যালবির্নের দল।
বুধবার মেলবোর্নে গ্রুপ-১ এর খেলায় টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ড ১৯.২ ওভারে ১৫৭ রানে অলআউট হয়। জবাবে ইংল্যান্ড ১৪.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১০৫ রান তোলার পর বৃষ্টির কারণে খেলা আর মাঠে গড়ায়নি। বৃষ্টি আইনে ৫ রানের জয় পায় আইরিশরা।
টসের পর দুদলের খেলোয়াড়রাই জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য মাঠে নেমেছিলেন। বৃষ্টির কারণে তখন ৬ মিনিট বিলম্ব হয়। পরে আবার নামে বৃষ্টি। সেটি দীর্ঘ সময় স্থায়ী না হওয়ায় ১৮ মিনিট পর খেলা শুরু হয়।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ড স্টোকসের প্রথম ওভারে তোলে ৩ রান। পরে বল হাতে নেন ওকস। প্রথম বলেই চার মারেন স্টার্লিং। তৃতীয় বলে ৩ রান নেন। আবারও বৃষ্টি নামলে তখন খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ১.৩ ওভারে আইরিশদের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ১১ রান।
সেসময় ২১ মিনিট পর ব্যাট-বলের লড়াই শুরু হয়। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকলেও স্টার্লিং ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৮ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ১৪ রান করে যান।
মার্ক উডের করা ১৫০ কি.মি. গতির বল তুলে মারেন আইরিশ ওপেনার। থার্ডম্যানে কারেন ক্যাচ ধরলে ভাঙে ২১ রানের ওপেনিং জুটি। উডের পরের বলে এক রান নেন লোরকান টাকার। এই বলের গতি ছিল ১৫১ কি.মি.।
আকাশে মেঘের ঘনঘটার মাঝে দ্রুত রান তুলতে তৎপর ছিল আয়ারল্যান্ড। মারমুখী ছিলেন টাকার। ৫.২ ওভারে স্কোর ৫০ পেরিয়ে যায়। পাওয়ার প্লে শেষে স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৫৯ রান। শুরুতে খোলসবন্দি অ্যান্ডি ব্যালবির্নে পরে চড়াও হন। ১০ ওভারে আইরিশরা ১ উইকেটে ৯২ রানে পৌঁছে যায়।
সাবলীল খেলতে থাকা টাকার দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হন। আদিল রশিদের বলে সোজা ব্যাটে ড্রাইভ করেন ব্যালবির্নে। ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ধরতে যান আদিল। বল তার হাতে লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ক্রিজের বাইরে বের হয়ে আসায় ২৭ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৩৪ রান করে টাকার ফিরে যান। ভেঙে যায় ৮২ রানের দারুণ জুটি।
খানিক পর রানের খাতা না খুলে উডের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন হ্যারি টেক্টর। দলের হাল ধরে রেখে ফিফটি তুলে নেন ম্যাচসেরা ব্যালবির্নে। ৪৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রান করে লিভিংস্টোনের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে হেলসের হাতে ধরা পড়েন।
পরের বলেই জর্জ ডকরেলকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান লিভিংস্টোন। সেটা প্রতিহত করে দেন গ্যারেথ ডেল্যানি। কার্টিস ক্যাম্ফের ১১ বলে ৩ চারে ১৭ রান করে উডের তৃতীয় শিকার হন। পরে চলতে থাকে আইরিশদের আসা-যাওয়ার মিছিল।
একপর্যায়ে আয়ারল্যান্ডের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ১০৩ রান। সেখান থেকে আর মাত্র ৫৪ রান যোগ করতে তারা ৯ উইকেট হারায়।
ইংলিশদের পক্ষে ৪ ওভারে ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন মার্ক উড। লিয়াম লিভিংস্টোন ৩ ওভারে ১৭ রানে নেন ৩ উইকেট। স্যাম কারেন ২টি ও বেন স্টোকস নেন একটি করে উইকেট।
১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই অধিনায়ক জস বাটলারের উইকেট হারিয়ে বসে ইংল্যান্ড। কোনো রান না করে জশ লিটলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বাটলার।
তৃতীয় ওভারে হেলসের উইকেটও নেন লিটল। ৩০ গজ বৃত্তের ভেতর ডেল্যানি ক্যাচ ছাড়লে জীবন পেয়েছিলেন হেলস। পরেই বলেই ৫ রান করে অ্যাডাইরের তালুবন্দি হন।
ফিওন হ্যান্ডের বলে বোল্ড হন ৬ রান করা বেন স্টোকস। ২৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড বিপদে পড়ে।
ডকরেলের করা ১১তম ওভারটি ছিল ঘটনাবহুল। লং অনে হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ ফেলেন অ্যাডাইর। পরের বলে ডেভিড মালানের সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি ডেল্যানি। পঞ্চম বলে অবশ্য ডেল্যানি আর ভুল করেননি। ডিপ মিড উইকেটে ১৮ রান করা ব্রুকের ক্যাচ নেন।
১৩তম ওভারের শেষ বলে ৪ মেরে মঈন আলী আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এক হাজার রান পূর্ণ করেন। টি-টুয়েন্টি সুলভ ব্যাটিং করতে না পারা মালান ৩৭ বলে ২ চারে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন দিশেহারা ইংল্যান্ড।
আশার আলো হয়ে জ্বলছিলেন মঈন। ১২ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। এমন সময় বৃষ্টি নামলে আর ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
আইরিশদের মধ্যে জশ লিটল ৩ ওভারে ১৬ রানে ২ উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন ব্যারি ম্যাকার্থি, ফিওন হ্যান্ড ও জর্জ ডকরেল।







