উড়ন্ত সূচনা ইনিংসের মাঝামাঝি পর্যন্ত টেনে নিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। শেষদিকের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় অবশ্য সেটির চূড়ান্ত রূপ আসেনি, মেলেনি আরও বড় সংগ্রহ। সুপার টুয়েলভে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯.৪ ওভারে তারা ১৫৭ রান তুলে গুটিয়ে গেছে।
একপর্যায়ে আয়ারল্যান্ডের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ১০৩ রান। সেখান থেকে আর মাত্র ৫৪ রান যোগ করতেই ৯ উইকেট হারিয়েছে দলটি।
বুধবার মেলবোর্নে গ্রুপ-১ এর খেলায় টসের পর দুদলের খেলোয়াড়রাই জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য মাঠে নেমেছিল। বৃষ্টির কারণে সেটি ৬ মিনিট পিছিয়ে যায়। পরে আবারও নামে বৃষ্টি। দীর্ঘ সময় স্থায়ী না হওয়ায় ১৮ মিনিট পর ফের খেলা শুরু হয়।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ড স্টোকসের করা প্রথম ওভারে তোলে ৩ রান। পরে বল হাতে নেন ক্রিস ওকস। প্রথম বলেই চার মারেন পল স্টার্লিং। তৃতীয় বলে ৩ রান নেন। তখন আবারও বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ হয়। ১.৩ ওভারে আইরিশদের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ১১ রান।
২১ মিনিট পর আবারও ব্যাট-বলের লড়াইয়ের দেখা মেলে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকলেও স্টার্লিং ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৮ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ১৪ রান করে যান।
মার্ক উডের ১৫০ কি.মি. গতির বল তুলে মারেন আইরিশ ওপেনার। থার্ডম্যানে থাকা স্যাম কারেন ক্যাচ নেন, ভাঙে ২১ রানের ওপেনিং জুটি। উডের পরের বলে এক রান নেন লোরকান টাকার। এ বলের গতি ছিল ১৫১ কি.মি।
আকাশে মেঘের ঘনঘটার মাঝে দ্রুত রান তুলতে তৎপর ছিল আয়ারল্যান্ড। বাইশ গজে মারমুখী ছিলেন টাকার। ৫.২ ওভারে দলীয় স্কোর ৫০ পেরিয়ে যায়। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৫৯ রান।
শুরুতে খোলসবন্দি থাকা অ্যান্ডি ব্যালবির্নে ব্যাট হাতে পরে চড়াও হন। তাতে ১০ ওভারে আইরিশরা ১ উইকেটে ৯২ রানে পৌঁছে যায়।
সাবলীল খেলতে থাকা টাকার দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হন। আদিল রশিদের বলে সোজা ব্যাটে ড্রাইভ করেছিলেন ব্যালবির্নে। ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ধরতে যান আদিল। বল তার হাতে লেগে ষ্ট্যাম্পে আঘাত করে। ক্রিজের বাইরে বের হয়ে আসায় ২৭ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৩৪ রান করে টাকার ফিরে যান। ভেঙে যায় ৮২ রানের দারুণ জুটি।
খানিক পরই রানের খাতা না খুলে উডের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন হ্যারি টেক্টর। দলের হাল ধরে রেখে ফিফটি তুলে নেন ব্যালবির্নে। ৪৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রান করে লিয়াম লিভিংস্টোনের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে অ্যালেক্স হেলসের হাতে ধরা পড়েন।
পরের বলে জর্জ ডকরেলকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান লিভিংস্টোন। যদিও সেটি প্রতিহত করেন গ্যারেথ ডেল্যানি।
কার্টিস ক্যাম্ফের ১১ বলে ৩ চারে ১৭ রান করে উডের তৃতীয় শিকার হন। পরে চলতে থাকে আইরিশ ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিল। ইংল্যান্ডের বোলারদের কামব্যাকে স্কোর ১৫৭ রানে আটকে যায়।
ইংলিশদের পক্ষে ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মার্ক উড। লিয়াম লিভিংস্টোন ৩ ওভারে ১৭ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। স্যাম কারেন ২টি ও বেন স্টোকস নেন একটি করে উইকেট।








