জিতলেই সেমিফাইনাল- এমন সমীকরণকে সামনে রেখে বোলিংয়ে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে রেখেছিল ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে বড় স্কোর করা থেকে বিরত রেখে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে কাজের কাজটাও তাদের হয়ে গেল। ৪ উইকেটের জয়ে এক নম্বর গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমির টিকিট কেটেছে ইংলিশরা।
শনিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হওয়া ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করা লঙ্কানরা ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানে থামে। জবাবে ইংল্যান্ড ৪ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে শেষ চারে পৌঁছে গেল।
এক নম্বর গ্রুপের সব ম্যাচ শেষে ৫ ম্যাচ খেলে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট সমান ৭। রানরেটে সবার উপরে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আগেই সেমিতে যাওয়া কিউইরা। ইংল্যান্ড হয়েছে গ্রুপ রানার্সআপ। রানরেটে বাজে অবস্থায় থাকায় গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।
১৪২ রানের মাঝারি স্কোর তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ইংল্যান্ড ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে ৭০ রান জমা করে। জস বাটলার রয়ে সয়ে খেললেও অ্যালেক্স হেলসের ব্যাট ছিল অশান্ত।
অষ্টম ওভারে ভানিডু হাসারাঙ্গার বলে দারুণ এক ক্যাচ নেন চামিকা করুনারত্নে। এতে ভাঙে ৭৫ রানের ওপেনিং জুটি। ২৩ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২৮ রানে আউট হন জস বাটলার।
দশম ওভারে ৩০ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৪৭ রান করে হাসারাঙ্গার বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হেলস। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা হ্যারি ব্রুকস ৪ রান করে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন। লিয়াম লিভিংস্টোনও ৪ রান করে ছাড়েন বাইশ গজ।
১৫তম ওভারে ধনঞ্জয়ার হাতে সহজ ক্যাচ উপহার দেন এক রান করা মঈন আলী। আকস্মিকভাবে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১১১ রান। একপেশে খেলায় ফেরে খানিকটা প্রাণ। যদিও ইংলিশদের তখন ৩৩ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩১ রান।
লাহিরু কুমারার করা ১৮তম ওভারের শেষ বলে ৬ রান করা স্যাম কারেন বিদায় নেন। ফাইন লেগে বাউন্ডারি লাইনে তার দারুণ ক্যাচ ধরেন কাসুন রাজিথা।
জমে ওঠা ম্যাচে শেষ ১২ বলে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। হাতে ছিল ৪ উইকেট। এ সময় বোলিং আক্রমণে আসেন রাজিথা। ওভারটিতে থ্রি লায়নরা ৮ রান তুলতে সক্ষম হলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য তাদের ৫ রান দরকার ছিল।
শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ৩ রান আসার পর তৃতীয়টি হয় ডট বল। চতুর্থ বলে বাউন্ডারি মেরে ইংল্যান্ডের শেষ চারে যাওয়া সুনিশ্চিত করেন ৮ রানে অপরাজিত থাকা ক্রিস ওকস।
তিন নম্বরে নামা বেন স্টোকস ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মাঝে শান্ত মেজাজে ব্যাট করে ৩৬ বলে ২ চারে ৪২ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়কে সঙ্গী করেই মাঠ ছাড়েন।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুটি করে উইকেট পান লাহিরু কুমারা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও ভানিডু হাসারাঙ্গা।
এর আগে লঙ্কান দুই ওপেনার ব্যাটিংয়ে আনেন দুর্দান্ত শুরু। ইংলিশ বোলাররে তুলোধুনো করে প্রথম চার ওভারে নিশাঙ্কা-মেন্ডিস জুটি তুলে ফেলেন ৩৯ রান। মেন্ডিস ১৪ বলে ১৮ করে ফিরলে ভাঙে জুটি। লঙ্কান ইনিংসের ভাঙনের শুরু তখন থেকেই।
তিনে নামা ডি সিলভা ব্যর্থ হয়েছেন। চারিথ আসালাঙ্কা ৯ বলে আনতে পারেন মোটে ৮ রান। অফফর্মে থাকা অধিনায়ক শানাকা, ভানিডু হাসারাঙ্গা সহ নিচের দিকের বাকি সবাই থেমেছেন অঙ্ক ডিজিটে।
মিডলে ভানুকার ২২ বলে ২২ রান ছাড়া ধুঁকেছিল বাকি সবাই। অনুজ্জ্বল লঙ্কানদের দিনে বড় রানের আশা দেখিয়েছিলেন ফিফটি ছাড়ানো নিশাঙ্কা। দলীয় ১১৮ রানে ৪৫ বলে দুই চার ও পাঁচ ছক্কায় ৬৭ করে ফিরলে থমকে যায় রানের চাকা। লঙ্কান দল শেষ ৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে মোটে ২৫ রান। শেষ ওভারে উডের হাতে ধরা পড়েছে তিন লঙ্কান ব্যাটার।
বাজে শুরু করা দিন শেষ পর্যন্ত নিজেদের করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন ম্যাচ সেরা আদিল রশিদ। ৪ ওভারে ১৬ রান খরচায় নিয়েছেন একটি উইকেট। ৩ ওভারে ২৬ রান দেওয়া উডের শিকার ৩ উইকেট। একটি করে লঙ্কান ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন স্টোকস, ওকস ও স্যাম কারান।








