পাওয়ার প্লেতে এক উইকেটের বেশি না হারালেও ৩৩ রানের বেশি নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। বিস্ময়করভাবে পাওয়ার প্লেতে ক্যাঙ্গারুরা কোনো চার ছক্কাই মারেনি। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়া এমন অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম ঘটল। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মিনি ঝড় ও মার্কাস স্টয়নিসের শক্তিশালী ব্যাটিং ঝড়ে ৭ উইকেটে পরাজয়ের স্বাদ পেল শ্রীলঙ্কা।
মঙ্গলবার পার্থে গ্রুপ ১-এর খেলায় টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ১৫৭ রান করে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ২১ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
ব্যাট হাতে রুদ্রুরূপ ধারণ করে ম্যাচ সেরা স্টয়নিস ১৮ বলে ৪টি চার ও চার ছক্কায় ৩২৭.৭৭ স্ট্রাইক রেটে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন। অপরাজিত আরেকজন অ্যারন ফিঞ্চ করেন ৪২ বলে এক ছক্কায় ৩১ রান।
১৫৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া পঞ্চম ওভারে ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেট হারায়। মাহেশ থিকশানার বলে ১১ রান করা অজি ওপেনারের ক্যাচ নেন শানাকা।
সপ্তম ওভারে মিচেল মার্শের ক্যাচ ফেলে দেন মিডউইকেটে থাকা শানাকা। সেই সুযোগে দৌড়ে দুই রান নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে নিজের এক হাজার রান পূরণ করেন মার্শ।
হাসারাঙ্গার করা অষ্টম ওভার থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অজিরা দ্রুত রান তুলতে শুরু করে। ওই ওভারে আসে ১৫ রান। পরের ওভারে ধনঞ্জয়া ১৩ রান দিলেও মার্শের উইকেট তুলে নেন। ১৮ রান করা মার্শের ক্যাচ ধরেন ভানুকা রাজাপাকসে। দশম ওভারে হাসারাঙ্গা খরচ করেন ১৯ রান। ওভারটিতে এক চার ও দুই ছক্কা হাঁকান ম্যাক্সওয়েল।
৮ থেকে ১০ ওভারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ৪৭ রান তুলে ফেলে। ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৮৫ রান।
চামিকা করুনারত্নের করা ১৩তম ওভারের প্রথম বলে ব্যক্তিগত ২৩ রানে জীবন পান অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তিনবার ক্যাচ ধরার সুযোগ পেয়েও সেটি করতে পারেননি মিডউইকেটে থাকা দ্বাদশ ফিল্ডার আশেন বান্দারা।
পরের বলে ১২ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলা ম্যাক্সওয়েলের দারুণ ক্যাচ নেন বান্দারা।
ম্যাক্সওয়েলের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে মারতে শুরু করেন মাত্র ১৭ বলে ফিফটি পাওয়া মার্কাস স্টয়নিস। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির মালিক হলেন।
স্টয়নিসের ব্যাটিং ঝড়ের কাছে নাস্তানাবুদ হয় লঙ্কা বাহিনী। শেষ পর্যন্ত ১৬.৩ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি করে উইকেট পান ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, চামিকা করুনারত্নে ও মাহেশ থিকশানা। ৩ ওভারে উইকেটশূন্য থাকা হাসারাঙ্গা ৫৩ রান খরচ করেন।
এর আগে পার্থে গ্রুপ ১-এর খেলায় টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ওভারেই কুশল মেন্ডিসকে হারায়। প্যাট কামিন্সের বলে পুল করতে গেলে বল তার ব্যাটের উপরের কানায় লেগে বাতাসে উঠে যায়। মিড উইকেটে মিচেল মার্শ ক্যাচ নেন, ৪ রানে বিদায় নেন লঙ্কান ওপেনার।
পাওয়ার প্লেতে এক উইকেটের বেশি না হারালেও ৩৬ রানের বেশি নিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১০ ওভারে স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৬৩ রান। দ্বিতীয় উইকেটে পাথুম নিশাঙ্কা ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ৬৯ রান যোগ করলেও টি-টুয়েন্টি সুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারেননি।
করোনা আক্রান্ত হওয়া অ্যাডাম জাম্পার বদলে খেলতে নামা অ্যাশটন অ্যাগার তুলে নেন ধনাঞ্জয়ার উইকেট। ২৫ গজ দৌড়ে এসে দর্শনীয় এক এক ক্যাচ নেন ডেভিড ওয়ার্নার। ২৩ বলে ৩ চারে ২৬ রান করে ফেরেন ধনাঞ্জয়া।
১৩তম ওভারে ৩ রানে চারিথ আসালাঙ্কা বেঁচে যান। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের করা থ্রো উইকেটে লাগলেই রান আউট হতেন।
পরের ওভারেই আসালাঙ্কার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন ৪৫ বলে ২ চারে ৪০ রান করা নিশাঙ্কা। অ্যাগারের বলে কভারে শট খেলে দৌড় দিয়েছিলেন, নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা আসালাঙ্কা সামান্য এগিয়ে গেলেও ফেরত যান। নিশাঙ্কা অনেকটা পথ দৌড়ে যাওয়ার ফাঁকে মিচেল মার্শ বল কুড়িয়ে ম্যাথু ওয়েডের কাছে দেন। ওয়েড যখন স্টাম্প ভাঙেন, নিশাঙ্কা ক্রিজ থেকে ১০ গজ দূরে।
দলীয় রান একশো পেরোনোর পর আউট হন ভূমিকা রাজাপাকসে। ৭ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে প্যাট কামিন্সের তালুবন্দি হন। পরে অধিনায়ক দাসুন শানাকা ৩ রান করে ওয়েডের ক্যাচ হন। ১৬ ওভারে ১১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা।
শেষ দুই ওভারে ৩১ রান তুলে শ্রীলঙ্কা স্কোর খানিকটা বড় করে। আসালাঙ্কা ২৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন। অপরাজিত আরেকজন চামিকা করুনারত্নে করেছেন ৭ বলে ২ চারে ১৪ রান।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কামিন্স, স্টার্ক, অ্যাগার ও ম্যাক্সওয়েল একটি করে উইকেট নেন।







