‘সবাই জানি টি-টুয়েন্টি একটি অস্থির খেলা। আমরা শিরোপা জিততে পারিনি- এটাই সবচেয়ে খারাপ ঘটতে পারে। সবচেয়ে ভালো যেটা ঘটতে পারে, এমসিজিতে ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখতে পারা। আমরা পুরোপুরি শিরোপা জেতার আশা করছি কিনা জানি না। বুঝতে পারছি কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হবে। আবারও জয়ের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। গত বছর আমরা সেটা করেছিলাম। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছিলাম। শেষদিকে সঠিক সময়ে সেরা ক্রিকেট খেলেছিলাম।’
ঘরের মাঠে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার জন্য যে কঠিন হবে, সেটাই এভাবে জানিয়েছেন দলটির লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা।
সম্প্রতি নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে টি-টুয়েন্টি সিরিজ হেরেছে অজিরা। ক্যানবেরায় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও হারতে বসেছিল অ্যারন ফিঞ্চের দল। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানে হারতে হয়নি স্বাগতিকদের।
গ্যাবায় প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে শেষ চার বলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের দরকার ছিল ৪ রান। মোহাম্মাদ শামির সেই ওভারের শেষ ৪ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচটাই হেরেছে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দলটি।
অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক পরাজয় সত্ত্বেও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে সফল হয়েছিল ক্যাঙ্গারুরা। স্বাগতিক দর্শকদের ফিঞ্চের দলের কাছে বাড়তি প্রত্যাশা থাকছে।
দলের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় জাম্পার সরল স্বীকারোক্তি, ‘মনে করি সম্প্রতি আমরা যে ক্রিকেট খেলেছি তার গতি সম্ভবত কিছুটা কমে গেছে। আমরা মনে রাখছি বিশ্বকাপ কতটা কাছাকাছি। ট্রফি ধরে রাখার মতো পর্যাপ্ত রসদ নেই। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার সময় আমরা সবসময় সেরা পারফরম্যান্স করতে চাই। তবে মনে হয় বিশ্বকাপে কিছু ছেলেকে দারুণ খেলতে দেখবেন।’
গত মাসে ভারতে একটি তিন ম্যাচ সিরিজও ছিল, যেখানে অ্যারন ফিঞ্চ বলেছিলেন কিছুটা ক্লান্তি একটি কারণ হবে। শনিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ক্লান্তির বিষয়টিও সামনে আসছে।
জাম্পা বলছেন, ‘ক্লান্ত থাকা নিয়ে মন্তব্যগুলো সম্ভবত প্রায় ভুলভাবে নেয়া হয়েছিল। ছেলেরা এখন খেলার জন্য অপেক্ষা করছে।’
সিডনিতে আগামী কয়েকদিন রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। ম্যাচের ফলাফলে সেটি প্রভাব রাখার শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। জাম্পাকেও বিষয়টি বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। একইসঙ্গে দিবারাত্রির খেলায় পরে বোলিং করলে শিশিরের কারণে ভেজা বল অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলেও জানালেন জাম্পা।
‘আমরা এসসিজিতে বা সিডনিতে যখনই থাকি, তখনই মনে হয় আমরা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছি। তবে ভেজা উইকেট স্পিনারদের সহায়তা করতে পারে।’
‘ফ্ল্যাডলাইটের নিচে আমরা অনেক ক্রিকেট খেলি। বিশ্বের অনেক জায়গায় ভ্রমণ করি। যখন প্রথমে ব্যাট করেন এবং পরে বোলিং, তখনই শিশির পড়ে যায়। গত বছর বিশ্বকাপে এটা দেখেছিলাম। প্রায় প্রতিবার যখন পরে বোলিং করেন, একটি ভেজা বল দিয়ে বল করেছেন। তাই এর জন্য প্রস্তুত হওয়া সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।’







